স্বাস্থ্যসেবায় আকিজ রিসোর্সের বড় বিনিয়োগ, আজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার উদ্বোধন

· Prothom Alo

বছর দুয়েক ধরে দেশে নতুন বিনিয়োগের খরা চলছে। এর মধ্যেও নতুন নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে আকিজ রিসোর্স গ্রুপ। সে ধারাবাহিকতায় এবার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসায় নামছে তারা।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

আকিজ রিসোর্স গ্রুপ আজ বুধবার চালু করছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ জন্য তারা আকিজ মেডিপ্লেক্স লিমিটেড নামে নতুন কোম্পানি গঠন করেছে।

এ ছাড়া দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে গ্রুপটি। সে জন্য আকিজ মেডিকুইপ লিমিটেড নামে কোম্পানি খুলেছে। শুরুতে বিদেশ থেকে আমদানি করলেও পরবর্তী সময়ে দেশে কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। দুই-তিন মাসের মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম বাজারে আনতে চায় গ্রুপটি।

জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় আজ বুধবার আকিজ মেডিপ্লেক্সের প্রথম ডায়াগনস্টিক সেন্টার উদ্বোধন হবে। পরে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে আরও ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তা ছাড়া আগামী বছর প্রথম হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে গ্রুপটি।

আকিজ মেডিপ্লেক্সের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বার, আধুনিক প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা, ডিজিটাল রিপোর্টিং ব্যবস্থা, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট, হোম স্যাম্পল কালেকশন সেবা এবং আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি সুবিধা থাকবে।

— আবু জাফর ইকবাল আহমেদ, সিবিও, আকিজ মেডিপ্লেক্স লিমিটেডআমরা এমন একটি সেবার পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রযুক্তি, দক্ষতা ও মানবিক সেবার সমন্বয়ে রোগীরা দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য রোগ নির্ণয় সেবা পাবেন।

জানতে চাইলে আকিজ মেডিপ্লেক্স লিমিটেডের চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) আবু জাফর ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘দেশে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তবে এখনো অনেক মানুষকে মানসম্মত ডায়াগনস্টিক সেবা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বা দূরে যেতে হয়। আমরা এমন একটি সেবার পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রযুক্তি, দক্ষতা ও মানবিক সেবার সমন্বয়ে রোগীরা দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য রোগ নির্ণয় সেবা পাবেন।’

এদিকে আকিজ মেডিকুইপ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ডিভাইস বাজারে আনবে। আগামী আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

আকিজ রিসোর্স গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে চিকিৎসা সরঞ্জামের বাজারের আকার ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদন এখনো চাহিদার তুলনায় কম।

জানা যায়, আকিজ মেডিকুইপ শুরুতে বিদেশ থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি করবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন কারখানা থেকে নিজেদের ব্র্যান্ডে বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উৎপাদন করে বাজারজাত করবে। দুই বছরের মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে নিজস্ব কারখানা করার পরিকল্পনা রয়েছে গ্রুপটির।

আকিজ রিসোর্সের গ্রুপের চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ তৌফিক হাসান বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা এমন একটি খাত, যা সরাসরি মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভাবনা থেকেই স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তৌফিক হাসান আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসা সম্প্রসারণ নয়; বরং এমন একটি স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম। স্বাস্থ্যসেবা খাতে আমাদের এ উদ্যোগ দেশের চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ডিসেম্বর পর্যন্ত পোলট্রি ও প্রাণিখাদ্য, হালকা প্রকৌশল, ফার্মেসি ও জবস—এই চার নতুন ব্যবসায়ে যুক্ত হয় আকিজ রিসোর্স গ্রুপ। এসব খাতে তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এতে নতুন করে দেড় হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

২০২০ সালের এপ্রিলে আকিজ রিসোর্স গ্রুপ নামে আলাদা ব্যবসা শুরু করে। এর আগে তারা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া আকিজ গ্রুপের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০২০ সালে আলাদা ব্যবসা শুরু করার আগে আকিজ রিসোর্স গ্রুপ উত্তরাধিকারসূত্রে আকিজ সিমেন্ট, শিপিং ও ভোগ্যপণ্যের ট্রেডিং ব্যবসা পেয়েছিল। আলাদা ব্যবসা শুরুর পর দ্রুতই ব্যবসা বাড়াতে শুরু করেন গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ জসিম উদ্দিন।

বর্তমানে আকিজ রিসোর্স গ্রুপের নির্মাণসামগ্রী, ট্রেডিং, তথ্যপ্রযুক্তি, ভোগ্যপণ্য, শিপিং, হালকা প্রকৌশলসহ ১২ খাতে ব্যবসা রয়েছে। তাদের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৭টি। প্রতিষ্ঠানগুলোয় কাজ করেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আকিজ রিসোর্স গ্রুপের লেনদেন ছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

Read full story at source