ভর্তিতে লটারি প্রত্যাহারের আগে মাঠবাস্তবতা যাচাই জরুরি: রাশেদা কে চৌধূরী

· Prothom Alo

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিদ্যমান লটারিব্যবস্থার বাস্তবতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি বলেছেনে, এ ব্যবস্থা প্রত্যাহারের আগে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই করা জরুরি। কারণ, গ্রামীণ এলাকায় এমন লটারির প্রয়োজন হয় না। এটি মূলত শহরের নামী স্কুলগুলোয় প্রযোজ্য।

Visit lej.life for more information.

‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক সংলাপে এ কথা বলেন রাশেদা কে চৌধূরী। আজ সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এ সংলাপ আয়োজন করে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ’।

বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্তরে শিশুদের ভর্তিতে আবারও ভর্তি পরীক্ষা চালুর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি গতকাল রোববার জাতীয় সংসদেও ওঠে। তবে শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক করে বলেছেন, লটারির পরিবর্তে আবার পরীক্ষাপদ্ধতি চালু করা হলে শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে এবং কোচিং-প্রাইভেটের প্রবণতা নতুন করে মাথাচাড়া দেবে।

সংসদে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারিব্যবস্থা চালু করেছিল। তাঁর কাছে এটি খুব যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সবার অভিমত নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আজকের অনুষ্ঠানে রাশেদা কে চৌধূরীর প্রস্তাব ছিল, লটারি ও মেধা—দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি ‘মিশ্র ভর্তিব্যবস্থা’ বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

এ ছাড়া ‘স্কুল ক্যালেন্ডার’ নির্ধারণে বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন রাশেদা কে চৌধূরী। তাঁর মতে, সব অঞ্চলের জন্য একই ছুটির ক্যালেন্ডার কার্যকর না–ও হতে পারে। স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

দেশের শিক্ষা খাতকে রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থের বাইরে রাখার আহ্বান জানান রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি বলেন, শিক্ষা অবশ্যই রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হতে পারে। তবে তা কোনোভাবেই দলীয় এজেন্ডায় পরিণত হওয়া উচিত নয়।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যানদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কমানোর প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যোগ্যতার মান কমালে নানা ধরনের ব্যক্তির সেখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পারে।

রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ২০১৭ সালে হাইকোর্টের একটি রায়ে বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটিরর চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকরণ বন্ধে সেই রায়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মানসম্মত শিক্ষা সবার জন্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘কোয়ালিটি এডুকেশন ফর অল—এখানে “অল” মানে সত্যিকার অর্থেই সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা।’

শিক্ষাকে অধিকার হিসেবে স্বীকৃতির দাবি তুলে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, সংবিধানে শিক্ষা এখনো নাগরিকের অধিকার হিসেবে স্বীকৃত নয়। এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ আছে। তাঁর মতে, শিক্ষাকে নাগরিকের প্রয়োগযোগ্য অধিকার (এনফোর্সেবল রাইট) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। খাদ্যের অধিকার, কাজের অধিকার ও শিক্ষার অধিকারকে সাংবিধানিকভাবে শক্তিশালী করার কথাও বলেন তিনি।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা শিক্ষাব্যবস্থায় শুধু সনদনির্ভরতা নয়, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মতো বিষয়গুলোয় গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গ এলেও সংস্কৃতি ও ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তেমন আলোচনা না হওয়ায় প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শিক্ষা খাতকে এককভাবে না দেখে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাশেদা কে চৌধূরী। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের মতো সমস্যা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

Read full story at source