সাবডিউরাল হেমাটোমা কী? মাথায় আঘাত পাওয়ার পর কোন লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা যাবে না

· Prothom Alo

স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সামান্য অবহেলা বা ছোটখাটো আঘাতও জীবনকে বড় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিশেষ করে মাথার সামান্য আঘাতকেও অবহেলা করা যাবে না। মস্তিষ্কের আঘাতজনিত এ রকমই একটা জটিল ব্যাধি ‘সাবডিউরাল হেমাটোমা’।

সাবডিউরাল হেমাটোমা আসলে কী?

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, সাবডিউরাল হেমাটোমা হলো মস্তিষ্কের আবরণ ও মস্তিষ্কের উপরিভাগের মাঝখানের স্তরে রক্ত জমাট বাঁধা। আমাদের মস্তিষ্কের চারপাশে যে রক্ষাকবচ বা আবরণ থাকে, তাকে বলা হয় ‘ডুরা ম্যাটার’।

Visit chickenroad.qpon for more information.

যখন কোনো আঘাতে বা রক্তনালি ছিঁড়ে এই স্তরের নিচে রক্তক্ষরণ হয় এবং তা জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখনই তাকে বলে সাবডিউরাল হেমাটোমা।

প্রকারভেদ

এই রোগ মূলত দুই ধরনের হয়—অ্যাকিউট বা তীব্র এবং ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী। তীব্র হেমাটোমা সাধারণত বড় কোনো দুর্ঘটনার পরপরই দেখা দেয় এবং এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

অন্যদিকে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায় দীর্ঘস্থায়ী হেমাটোমা। অনেক সময় মাথায় মৃদু আঘাত পাওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরও এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।

আঘাত পেয়ে নীল হয়ে গেলে কী করা উচিত

লক্ষণ

• তীব্র বা ক্রমবর্ধমান মাথাব্যথা।
• বমি বমি ভাব বা বমি।
• ভারসাম্যহীনতা ও হাঁটতে সমস্যা।
• কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ বিভ্রান্ত বোধ করা।
• স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক আচরণ।

যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান বা প্রবীণ ব্যক্তি, যাঁদের মস্তিষ্কের টিস্যু বয়সের কারণে কিছুটা সংকুচিত হয়ে গেছে—তাঁদের ঝুঁকি আরও অনেক বেশি

কেন হয়?

এই রোগের প্রধান কারণ মাথায় আঘাত। সব সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা থেকেই যে এমনটা হবে, তা কিন্তু নয়; সিঁড়ি থেকে পড়ে বা বাথরুমে পিছলে বা কোনো কিছুতে বাড়ি লেগে মাথায় সামান্য আঘাত থেকেও নীরবে ঘটতে পারে রক্তক্ষরণ।

বিশেষ করে যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান বা প্রবীণ ব্যক্তি, যাঁদের মস্তিষ্কের টিস্যু বয়সের কারণে কিছুটা সংকুচিত হয়ে গেছে—তাঁদের ঝুঁকি আরও অনেক বেশি।

মাথাব্যথার ওষুধই যখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়সিটি স্ক্যান করে দ্রুত এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব

চিকিৎসা

সিটি স্ক্যান করে দ্রুত এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। জমাটবদ্ধ রক্তের পরিমাণ বেশি হলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ রোগীই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।

তাই মাথায় যেকোনো ছোট আঘাতকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আঘাত পাওয়ার পর যদি আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। আমাদের প্রত্যেকের সচেতনতাই এমন জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে।

মাথায় আঘাত পেলে কী করবেন

Read full story at source