৫ হাজার থেকে ৫০ লাখ অনুসারী: যেভাবে ভাইরাল নিউজিল্যান্ডের ফুটবলার

· Prothom Alo

৫ হাজার থেকে ৫০ লাখ...

Visit newssport.cv for more information.

গত সপ্তাহেও ইন্টারনেটের বিশাল সমুদ্রে নিউজিল্যান্ডের ফুটবলার টিম পেইন ছিলেন স্রেফ এক সাধারণ নাবিক। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ হাজার। অথচ আজ সেই সংখ্যা রকেটের গতিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখে!

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এসব অবিশ্বাস্য কাণ্ড সম্ভব, তবে সাধারণত সে জন্য নিজেকে কোনো না কোনো ভাইরাল কাণ্ডে জড়াতে হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো পেইন নিজে কিছুই করেননি! তিনি তাঁর এই অনুসারী বাড়ার মহাবিপ্লবের সঙ্গে সরাসরি জড়িতও নন।

তাহলে নেপথ্যের জাদুকর কে? এই পুরো ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হলেন আর্জেন্টাইন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেন স্কারসিনি। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ঠিক আগে তিনি খুঁজছিলেন এবারের বিশ্বকাপের ‘সবচেয়ে কম পরিচিত’ ফুটবলার কে? খুঁজতে খুঁজতে তাঁর চোখ আটকায় ৩২ বছর বয়সী নিউজিল্যান্ড ডিফেন্ডার টিম পেইনের ওপর, যাঁর অনুসারী ছিল মাত্র ৫ হাজার।

স্কারসিনি তখনই পেইনকে বিশ্বকাপের ‘সবচেয়ে কম পরিচিত’ খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যা দিয়ে সবাইকে তাঁকে ফলো করার আহ্বান জানান। ব্যস! বদলে গেল পেইনের ভাগ্য। মাত্র কয়েক দিনে তিনি পেয়ে গেলেন ৫০ লাখ অনুসারী।

দুজনে দেখাও করেছেন সম্প্রতি। ফ্লোরিডায় গত মঙ্গলবার রাতে হাইতির বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের একটি প্রীতি ম্যাচ ছিল। ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ৪-০ গোলে হেরে যায়। গ্যালারিতে বসে সেই ম্যাচ দেখেন স্কারসিনি। এর পরদিনই নিউজিল্যান্ডের টিম হোটেলে পেইনের সঙ্গে দেখা করেন এই ইনফ্লুয়েন্সার।

টিম হোটেলে পেইনকে দেখেই স্কারসিনি চিৎকার করে ওঠেন, ‘বন্ধু! কী খবর?’ মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়ে পেইনও তাঁকে জড়িয়ে ধরেন, ‘আমি ভালো আছি ভাই, তুমি কেমন আছ? তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে সত্যি দারুণ লাগল।’ এরপর স্প্যানিশে পেইন বলে ওঠেন, ‘কোমো এস্তাস’ (কেমন আছ)। পরক্ষণেই হেসে যোগ করেন, তাঁর স্প্যানিশের দৌড় আসলে ওই এক শব্দ পর্যন্তই!

View this post on Instagram

পুরো ব্যাপারটিকে এককথায় ‘পাগলাটে’ আখ্যা দিয়ে পেইন বলেন, ‘সবকিছুর জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আসলে কী বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না, এমন অভিজ্ঞতা তো আমার জন্য একদমই নতুন। এখনো পুরো ঘটনাটি বিশ্বাস করে উঠতে পারছি না, তবে অনুভূতিটা দারুণ!’

বিশ্বকাপের ঠিক আগে জনপ্রিয়তার এমন জোয়ারকে পেইন কীভাবে দেখছেন? স্কারসিনির এমন প্রশ্নের জবাবে এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বলেন, ‘এটি অবশ্যই আমার ও নিউজিল্যান্ড ফুটবলের জন্য দারুণ ভালো দিক। আমাদের ওপর অনেকের চোখ পড়েছে, তবে এই কারণে একজন মানুষ হিসেবে আমি বদলে যাইনি। আমি যা আছি, তাই থাকব। আমার কাজ ফুটবল খেলা এবং দেশের জন্য সেরাটা দেওয়া। আমি সেটাই করে যাব।’

শীর্ষে আর্জেন্টিনা: ভাঙবে কি ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ‘অভিশাপ’

কুশলবিনিময় শেষে স্কারসিনি পেইনকে আর্জেন্টিনা ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান। নিজেও নিউজিল্যান্ড যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। জবাবে পেইন তাঁকে নিজের স্বাক্ষর করা ২ নম্বর জার্সির একটি কিট উপহার দেন।

১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে ইরানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের মিশন শুরু করবে নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ ‘জি’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিসর। ১৯৮২ ও ২০১০ সালের পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলবে নিউজিল্যান্ড। তবে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এখনো কোনো ম্যাচ জেতেনি নিউজিল্যান্ড।

ভয় পাও ফ্রান্স, ভয় পাও স্পেন

Read full story at source