বাধার মুখে নির্ধারিত পর্ষদ সভা করতে পারেনি ইসলামী ব্যাংক
· Prothom Alo
ইসলামী বাংকের নতুন চেয়ারম্যানের যোগদানের উদ্দেশ্য পরিচালনা পর্ষদের সভা ডেকেছিল ব্যাংকটি। তবে গ্রাহকদের আন্দোলনের কারণে সশরীর সেই সভাটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। পরে অনলাইনে সভা করার অনুমোদন নেয় বাংকটি। তবে গ্রাহকদের চাপে অনলাইনেও সভাটি করা যায়নি।
নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আজ সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর দিলকুশা এলাকায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন ব্যাংকটির গ্রাহকেরা। সকালে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে মানববন্ধন কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আজ ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পর্ষদ সভা অনুষ্ঠানের কথা ছিল।
Visit palladian.co.za for more information.
ইসলামী ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সতর্ক অবস্থান।জানা যায়, ঈদের আগের শেষ কর্মদিবস ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন। একই দিন রাত নয়টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর খুরশীদ আলম পদত্যাগে বাধ্য হন। তাঁর নিয়োগের পর থেকে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক একটি পক্ষ এই নিয়োগের বিরোধিতা শুরু করে নানা ব্যানারে। এমনকি এই নিয়োগের বিরুদ্ধে ঈদের ছুটির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ঢাকায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরামের নেতা–কর্মীদের অবস্থানইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা আড়াইটায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ব্যাংকটি পূর্বনির্ধারিত পর্ষদ সভার তারিখ ছিল। তবে সকাল থেকে গ্রাহকের ব্যানারে আন্দোলনকারীদের চাপে আর সেই নির্ধারিত সভাটি হতে পারেনি। সশরীর সভা করতে না পেরে ইসলামী ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইনে সভা করার অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে গ্রাহকদের কর্মসূচির কারণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কিছু পুলিশ কমকর্তা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) অনলাইনে সভা করার পরামর্শ দেয়। অনলাইনে এই সভার প্রতিবাদেও গ্রাহকেরা এমডির কক্ষের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সে কারণে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সভা করতে পারেনি ব্যাংকটি।
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরামের নেতারা চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি আরও কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন।ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরামের নামে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ ও ডিবির কর্মকর্তারা অনলাইনে সভা করার জন্য এমডিকে চাপ প্রয়োগ করছেন। ঠিক একইভাবে ২০১৭ সালে ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল। তাঁদের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে তাঁরা ঘোষণা দেন।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, একটি রাজনৈতিক দল ইসলামী বাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছে। কোনো ব্যাংকে রাজনৈতিক প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না। সড়কে আন্দোলন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না।