যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলায় চীনের মরুভূমিতে পরমাণু ঘাঁটি আর উৎক্ষেপণ কেন্দ্র অবাক করে দিচ্ছে বিশেষজ্ঞদের
· Prothom Alo

চীনের প্রত্যন্ত এক মরুভূমিতে সুবিশাল এক সামরিক স্থাপনা গড়ে উঠছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগাম হামলা থেকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রাগার রক্ষা করা। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র আগে হামলা চালালেও বেইজিং যেন নিশ্চিতভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।
Visit turconews.click for more information.
যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো শহরে আঘাত হানার সক্ষমতা চীনের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর আগে থেকেই রয়েছে। সম্প্রতি স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
ছবিতে দেখা যায়, সবচেয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেসব ঘাঁটিতে (সাইলো) রাখা আছে, সেগুলোর কাছেই নতুন স্থাপনা বানাচ্ছে বেইজিং। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (লঞ্চপ্যাড), বাংকার ও যোগাযোগের বিভিন্ন উপকেন্দ্রের বিশাল এক নেটওয়ার্ক।
মরুভূমির প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় হামি নামের একটি পারমাণবিক সাইলো রয়েছে। এর কাছেই ৮০টির বেশি উৎক্ষেপন কেন্দ্র ও অষ্টভুজাকৃতির তিনটি স্থাপনা তৈরি করেছে চীন।
রয়টার্সের হয়ে ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেছেন তিনজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তাঁরা জানান, এই লঞ্চপ্যাডগুলো চীনের ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত হতে পারে। এ ছাড়া ছবিগুলোয় এমন কিছু স্থাপনা দেখা গেছে, যেগুলো ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও কমান্ড পরিচালনার কাজে লাগতে পারে।
এই বিশাল নির্মাণযজ্ঞের কথা আগে জানা যায়নি। ভূমিভিত্তিক পারমাণবিক বাহিনীকে পরিচালনা ও সুরক্ষিত রাখতে চীন যে ব্যাপকহারে দুর্ভেদ্য অবকাঠামো বাড়াচ্ছে, এটি তারই ইঙ্গিত দেয়। সব মিলিয়ে এই নেটওয়ার্ক প্রমাণ করে, পাল্টা হামলার (সেকেন্ড-স্ট্রাইক) সক্ষমতা নিশ্চিতে বেইজিং অনেক দূর এগিয়েছে।
তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বসহ নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে দুই দেশের পারমাণবিক প্রতিযোগিতাও যে তীব্র হচ্ছে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।উৎক্ষেপণ সক্ষমতা
বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ছবিতে কয়েক ডজন কংক্রিটের প্যাডের মধ্যে অন্তত দুটি দেখা গেছে। হাওয়াইভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক ফোরামের অ্যাডজাংক্ট ফেলো আলেকজান্ডার নিল বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, সাইলো এলাকার বাইরেও হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার মরুভূমিজুড়ে ব্যাপক পরিসরে এই অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।’
এসব স্থাপনার প্রকৃত সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নিল আরও বলেন, ‘চীনের কৌশলগত পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা যে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও বহুমুখী হচ্ছে, আমরা তারই প্রমাণ দেখছি।’
আগে হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার নীতির ওপর ভিত্তি করেই নিজেদের পারমাণবিক কৌশল সাজিয়েছে চীন। তাদের লক্ষ্য হলো, একটি ক্ষুদ্র হলেও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা। আর এ লক্ষ্য অর্জনে মরুভূমিতে থাকা সাইলো রক্ষার সক্ষমতা অর্জন করাটা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের সামরিক বাহিনী (পিপলস লিবারেশন আর্মি) সাবমেরিন ও বিমান থেকেও পারমাণবিক অস্ত্র ছুড়তে পারে। তবে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চল ও গানসু প্রদেশে থাকা সাইলো এলাকাগুলোই তাদের পারমাণবিক বাহিনীর মূল কেন্দ্র।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি নজরে থাকে এই পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টি।
কিছু পশ্চিমা কূটনীতিকের অভিযোগ, বেইজিংয়ের এই কর্মসূচিতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। চীনের বিকাশমান পারমাণবিক সক্ষমতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
চীনের সামরিক নীতির একটি মূলভিত্তি হলো পারমাণবিক অস্ত্র ‘প্রথমে ব্যবহার না করা’। অর্থাৎ তাদের বাহিনী আগে পারমাণবিক হামলা শুরু করবে না। তবে পশ্চিমা কিছু জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও বিশ্লেষকের ধারণা ভিন্ন। তাঁদের মতে, তাইওয়ান নিয়ে কোনো সংঘাত বাঁধলে বাইরের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে চীন পারমাণবিক অস্ত্রের ভয় দেখাতে পারে।
চলতি মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন সি চিন পিং। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ ঠিকমতো সামলাতে না পারলে পরিস্থিতি ‘ভয়ংকর দিকে’ যেতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। তবে তাইওয়ান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি ও স্যাটেলাইট ছবিতে উঠে আসা নতুন স্থাপনার বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা কোনো জবাব দেয়নি। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বলেছে, গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।মরুভূমিতে অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনা
পূর্ব জিনজিয়াংয়ে গত ছয় বছরে অষ্টভুজাকৃতির দুটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এই দুটি স্থাপনাকে কেন্দ্র করেই মরুভূমির নতুন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। স্থাপনা দুটি হামি পারমাণবিক সাইলো এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এর একটির দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার, অন্যটি প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দূরে।
স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা যায়, অষ্টভুজাকৃতির কাঠামোগুলোর ভেতরে কর্মীদের থাকার জায়গা ও বড় সামরিক যানের অবস্থান রয়েছে। এর দুই পাশে রয়েছে সাঁজোয়া বাংকার ও সুরক্ষিত অস্ত্রভান্ডার। এ ছাড়া সেখানে থাকা এয়ারফিল্ড ও রেলওয়ে টার্মিনালগুলো হামি সাইলোর সঙ্গে অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনাগুলোকে যুক্ত করেছে।
ছবিতে আরও দেখা যায়, চলতি মাসে ও গত এপ্রিলে উত্তরের অষ্টভুজ স্থাপনার চারপাশে বড় সামরিক যান নিয়ে মহড়া চলেছে। সাম্প্রতিক ছবিতে বড় বড় তাঁবু চোখে পড়েছে। দুজন বিশ্লেষক জানিয়েছেন, এগুলো মরুভূমিতে লুকিয়ে রাখা ছদ্মবেশী উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হতে পারে। এর কয়েকটিতে আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।দক্ষিণের অষ্টভুজ স্থাপনার চারপাশের স্থাপনা
স্যাটেলাইট ছবিতে এই স্থাপনার চারপাশে রেললাইন, একটি রেল টার্মিনাল, একটি এয়ারফিল্ড এবং জ্বালানি সংরক্ষণের সম্ভাব্য জায়গা ও সুরক্ষিত বাংকার দেখা গেছে।
অষ্টভুজাকৃতির এসব স্থাপনার অস্তিত্বের কথা আগেই নথিপত্রে উঠে এসেছিল। তবে এসব স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের বিশাল নেটওয়ার্কের খবর রয়টার্সই প্রথম প্রকাশ করল। পাশাপাশি একটি স্থাপনার আশপাশে সাম্প্রতিক সামরিক কার্যক্রম এবং বিশ্লেষকদের মূল্যায়নের বিষয়টিও তারা সামনে এনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো থেকে ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনা করা যেতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।উত্তরের অষ্টভুজ স্থাপনার চারপাশে মহড়া
স্যাটেলাইটের ছবিতে গত এপ্রিল ও মে মাসে ওই স্থাপনার আশপাশে বিভিন্ন সামরিক তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রয়টার্স পাঁচজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাঁরা সবাই একমত, এই অবকাঠামো মূলত চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য সামরিক কাজে সহায়তা করতে পারে। তবে তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অজানা রয়ে গেছে।
যেমন চীন এসব উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করবে? অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনাগুলোতে ট্রাকে বহনযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হবে কি না, নাকি সেখানে পারমাণবিক ওয়ারহেড যুক্ত করার সুবিধা থাকবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসানের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে কুচকাওয়াজ করে চীনের সামরিক বাহিনী। সেখানে তারা পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম এমন অস্ত্রের প্রদর্শনী করেছে। এর মধ্যে সাইলোভিত্তিক ও ট্রাকে বহনযোগ্য আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও (আইসিবিএম) ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে দ্রুতগতিতে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন।
চীনের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন নিয়ে পেন্টাগন সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, চীনের ওয়ারহেড উৎপাদন ধীর হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে ১ হাজার ওয়ারহেড মোতায়েনের পথে এগোচ্ছে দেশটি। গত ডিসেম্বরের ওই প্রতিবেদনে আরও ধারণা দেওয়া হয়, চীন তাদের তিনটি প্রধান সাইলোতে ইতিমধ্যে ১০০টি আইসিবিএম প্রস্তুত রেখেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নিজেদের আগাম সতর্কবার্তাব্যবস্থাও (আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম) জোরদার করছে চীন। এর কেন্দ্রে রয়েছে তাদের ‘হুয়োয়ান-১’ স্যাটেলাইট।
পেন্টাগন বলছে, এই ব্যবস্থায় কোনো আইসিবিএম ধেয়ে এলে তা উৎক্ষেপণের ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে শনাক্ত করা যায়। আর তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে তা কমান্ড সেন্টারে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে। শত্রুর আঘাত হানার আগেই নিজেদের সাইলোভিত্তিক অস্ত্র থেকে পাল্টা হামলা চালানোর জন্য এই সময়টুকুই চীনের জন্য যথেষ্ট।
‘অভাবনীয় এক উদ্যোগ’
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মরুভূমির অনেক দূর পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা ও ভূগর্ভস্থ যে নেটওয়ার্ক চলে গেছে, প্রতিটি অষ্টাভুজ স্থাপনা তার একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত। এসব রাস্তাগুলো কংক্রিটের প্যাডগুলোকে যুক্ত করেছে, যেগুলো পাথুরে এলাকা ও খালের শুকনা তলদেশের মধ্যে লুকিয়ে আছে।
তিনজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, এসব প্যাড ভ্রাম্যমাণ আকাশ-প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের উপকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। আর তুলনামূলক বড় প্যাডগুলো ভ্রাম্যমাণ আইসিবিএম লঞ্চার হিসেবেও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের পারমাণবিক তথ্যপ্রকল্পের পরিচালক হ্যান্স ক্রিস্টেনসেন বলেন, এই বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ঠিক কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে এমন বৈরী পরিবেশে এত বড় পরিসরে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে যে, ‘কোনো কিছুর সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না’।
ক্রিস্টেনসেন ও নিল জানান, অষ্টাভুজাকৃতির কাঠামোগুলোর সঙ্গে উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করা ওই ভূগর্ভের সুরক্ষানলগুলোর ভেতরে যোগাযোগের জন্য ফাইবার অপটিক কেবল থাকতে পারে।
তিনজন বিশ্লেষক স্যাটেলাইট ডিশ ও দুটি বড় টাওয়ারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, একেবারে উত্তরের অষ্টভুজ স্থাপনায় মহাকাশ বা মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগের সম্ভাব্য ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে।
কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের পারমাণবিক নীতিবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো টং ঝাও বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমার মনে হয়, অষ্টাভুজ কাঠামোগুলো এবং অদ্ভুত টাওয়ারগুলোর সঙ্গে সি–থ্রি (কমান্ড, কন্ট্রোল এবং কমিউনিকেশন)-এর যুক্ত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি হামি আইসিবিএম সাইলো এলাকায় চীনের পারমাণবিক কার্যক্রমের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের সঙ্গেও এগুলো সম্পৃক্ত থাকতে পারে।’
লোপ নুর পারমাণবিক পরীক্ষাকেন্দ্রের দক্ষিণে অষ্টভুজাকৃতির তৃতীয় একটি স্থাপনা রয়েছে। তবে এটি এখনো সেভাবে উন্নত করা হয়নি। মনে হচ্ছে, এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার অনুশীলনের জায়গা (টার্গেট রেঞ্জ) হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্যাটেলাইটের ছবিতে সেখানকার মাটি ক্ষতবিক্ষত ও ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের বিশ্লেষকেরা জানান, সেখানে পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের রেপ্লিকা বা নকল কাঠামোও রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল, শাটল রাডার টপোগ্রাফি মিশন, ন্যাচারাল আর্থ ও ওপেনস্ট্রিটম্যাপ। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।অনুশীলনের জায়গা হিসেবে তৃতীয় অষ্টভুজের ব্যবহার
স্যাটেলাইটের ছবিতে ওই এলাকায় নকল উড়োজাহাজ, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ক্ষতবিক্ষত মাটি দেখা গেছে।
সাইলোর কাছে এমন বিশাল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চীনকে সম্ভাব্যভাবে অন্যান্য প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর দেশের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কাছে বেইজিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড ও অস্ত্র মজুত রয়েছে। তবে আগাম হামলা ঠেকাতে তারা বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে না। এর বদলে তারা বিপুলসংখ্যক সাইলো, সেগুলোর বিচ্ছিন্ন অবস্থান এবং মজবুত অবকাঠামোর ওপরই বেশি নির্ভর করে।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে যে বিশাল নির্মাণযজ্ঞ চলছে, তা দেখে অভিজ্ঞ বিশ্লেষকেরাও অবাক হয়েছেন। ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমি এর আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি। এটি অসাধারণ এবং অভাবনীয় এক উদ্যোগ।’