সাফা কবিরের কাছে কোরবানি মানে শুধু পশু উৎসর্গ নয়, নিজের ভেতরের নেতিবাচকতাকেও ত্যাগ করা

· Prothom Alo

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে হাল ফ্যাশনের সঙ্গে একান্ত আলাপে উঠে এসেছে অভিনেত্রী সাফা কবিরের আবেগঘন কিছু স্মৃতি, ঈদের শুভেচ্ছা এবং জীবনের প্রতি তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবার, প্রিয়জন আর শৈশবের স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়া। আর কোরবানির ঈদ এলে সেই অনুভূতি যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে। এবারের ঈদকে ঘিরে অভিনেত্রী সাফা কবির কথা বললেন তাঁর শৈশবের কোরবানির স্মৃতি, পরিবার, রান্না, প্রিয় খাবার, অভিনয়জীবন আর নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে। একান্ত আলাপে উঠে এসেছে তাঁর ভীষণ আবেগঘন কিছু স্মৃতি, দর্শকদের জন্য শুভেচ্ছা এবং জীবনের প্রতি তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

Visit rouesnews.click for more information.

ছোটবেলার কোরবানির ঈদের কথা উঠতেই নস্টালজিয়ায় ভেসে যান সাফা কবির

ছোটবেলার কোরবানির ঈদের কথা উঠতেই নস্টালজিয়ায় ভেসে যান সাফা কবির। তাঁর কাছে কোরবানি মানে শুধু পশু কোরবানি নয়, বরং নিজের অহংকার, লোভ আর নেতিবাচক বিষয়গুলোকে ত্যাগ করাও কোরবানির আসল অর্থ। ছোটবেলা থেকে এমন কোনো ঈদ যায়নি, যেদিন তাঁদের পরিবারে কোরবানি হয়নি। তবে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে দাদুর কথা। দাদু বেঁচে থাকতে সব নাতি-নাতনিরা মিলে মাংস কাটতেন, আর যারা মাংস কাটত তাদের আলাদা করে টাকা দিতেন তিনি। সেই স্মৃতিগুলো এখনও তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। আবার কাজিনদের গরু সাজানো, কার গরু দেখতে বেশি সুন্দর—এসব ছোট ছোট মুহূর্তও আজ তাঁর কাছে ভীষণ প্রিয়।

গরুর হাটের অভিজ্ঞতাও কম রোমাঞ্চকর নয়। বহুবার গরুর হাটে গেছেন তিনি। এমনকি একবার বাবাকে ছাড়া নিজেই গরু কিনে কোরবানি ও মাংস বিতরণের পুরো দায়িত্ব সামলেছেন। যদিও গরুর হাটে গেলেই তাঁর ভয় লাগে। সাহসিকতা দেখালেও মনে হয় গরু বুঝি দৌড়ে চলে আসবে। তবুও বাবার সঙ্গে হাটে গিয়ে গরু কেনার অভিজ্ঞতাকে তিনি আনন্দ, ভয় আর ভালো লাগার এক মিশ্র অনুভূতি বলেই মনে করেন।

বাবার সঙ্গে হাটে গিয়ে গরু কেনার অভিজ্ঞতা আনন্দ, ভয় আর ভালো লাগার এক মিশ্র অনুভূতি

খাবারের প্রসঙ্গে সাফা কবিরের সবচেয়ে প্রিয় পদ মটরশুঁটির পোলাও। শুধু ঈদ নয়, যেকোনো আয়োজনেই এই খাবার তাঁর ভীষণ পছন্দ। রান্না করতেও তিনি সমান ভালোবাসেন। প্রতি ঈদে নিজের হাতে বাবা-মায়ের জন্য রান্না করেন। এবার তাঁর ইচ্ছে খুব অল্প মসলায় পেশাওয়ারি গরুর মাংস রান্না করার। পাশাপাশি পরিবার, বন্ধুদের দাওয়াত তো থাকছেই, অন্যদের বাসাতেও দাওয়াত খাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
মায়ের হাতের রান্নার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় শর্ষে ইলিশ। তাঁর ভাষায়, মা দারুণ শর্ষে ইলিশ রান্না করেন এবং সেটাই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবারগুলোর একটি।

পোশাকের ব্যাপারে সাফা কবির সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সালোয়ার-কামিজে। বিশেষ করে সম্প্রতি ফারসি সালোয়ার আর ছোট কামিজের সাজ তাঁর খুব পছন্দের। ঈদের সাজেও তিনি খুব হালকা থাকতে ভালোবাসেন। তাঁর পছন্দ ‘মেকআপ ছাড়া মেকআপ’ ধাঁচের সাজ। সানস্ক্রিন, হালকা ঠোঁটের রঙ, সামান্য মাসকারা আর একটু ব্লাশ—এতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

সম্প্রতি ফারসি সালোয়ার আর ছোট কামিজের সাজ তাঁর খুব পছন্দেরত্বকের যত্নের ব্যাপারেও বেশ নিয়ম মেনে চলেন তিনি

ত্বকের যত্নের ব্যাপারেও বেশ নিয়ম মেনে চলেন তিনি। শুটিং থেকে যত ক্লান্ত হয়েই ফিরুন না কেন, ঘুমানোর আগে ত্বক পরিষ্কার করতে ভুলেন না। তেল দিয়ে মেকআপ তোলা, স্ক্রাব, মুখ ধোয়া, টোনার, সিরাম, ময়েশ্চারাইজার, চোখের ক্রিম আর ঠোঁটের বাম—এই পুরো যত্নের ধাপ নিয়মিত অনুসরণ করেন।

সুগন্ধির ক্ষেত্রে তিনি খুব বেছে চলেন। একসঙ্গে অনেক সুগন্ধি ব্যবহার করেন না। একটি নির্দিষ্ট সুগন্ধ দীর্ঘসময় ব্যবহার করতেই ভালোবাসেন। বর্তমানে তিনি একটি বিশেষ সুগন্ধি ব্যবহার করছেন, যা তাঁর খুব প্রিয়।যার নাম সেলিন (CELINE)
ঈদের ছুটি তাঁর কাছে মূলত পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়। একসঙ্গে খাওয়া, আড্ডা, সিনেমা দেখা—এসবই তাঁর ঈদের আনন্দ। যেহেতু ঈদে তাঁর অনেক নাটক ও কাজ প্রচার হয়, তাই পরিবারের সবাই মিলে বসে সেসব কাজও দেখেন।

এবারের ঈদে পাওয়া উপহারের কথাও মজার ছলে জানালেন তিনি। কোরবানির ঈদে উপহারের চেয়ে গরু-ছাগল নিয়েই ব্যস্ততা বেশি থাকে বলে মন্তব্য করে হাসতে হাসতে বলেন, তাঁর মা তাঁকে একটি ছাগল কিনে দিয়েছেন, আর সেটাই তাঁর এবারের ঈদের উপহার।

অভিনয়ের প্রসঙ্গে এসে তিনি বলেন, ‘মৎস্যকন্যা’ ও ‘চা গরম’—দুটি কাজই তাঁর হৃদয়ের খুব কাছের। ‘মৎস্যকন্যা’ চরিত্রটির প্রস্তুতি, পোশাক তৈরি, পানির নিচে দৃশ্যধারণ—সব মিলিয়ে এটি ছিল তাঁর হৃদয়ের খুব কাছের একটি কাজ। অন্যদিকে ‘চা গরম’-এর গল্প ও চরিত্রও দর্শকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসক আইরিন চরিত্রটি তাঁকে অনেক মানুষের মনে নতুনভাবে জায়গা করে দিয়েছে। এখন অনেকেই তাঁকে দেখলে ‘চা গরম’ বলে ডাকেন, যা তিনি দারুণ উপভোগ করেন।

এখন অনেকেই তাঁকে দেখলে ‘চা গরম’ বলে ডাকেন

চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে বারবার তাঁর নানাভাইয়ের কথা মনে পড়ে। কারণ ছোটবেলায় নানাভাই চেয়েছিলেন তিনি চিকিৎসক হন। বাস্তবে সেটা না হলেও অভিনয়ের মাধ্যমে অন্তত বিশ্বাসযোগ্যভাবে চিকিৎসকের চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরতে পারছেন—এটাই তাঁকে আনন্দ দেয়।

বর্তমানে বেশ কিছু নতুন কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাফা কবির। এবারের ঈদে দর্শক তাঁকে দেখতে পাবেন ‘উপসংসার’, ‘ওয়ারিশ’, ‘চেকমেট’, ‘কমন সেন্স’সহ আরও বেশ কিছু ভিন্নধর্মী নাটকে। তিনি মনে করেন, একই ধরনের চরিত্রে বারবার অভিনয় করলে একঘেয়েমি চলে আসে। তাই সবসময় নতুন ধরনের গল্প আর চরিত্র বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

অভিনয় ও মডেলিংয়ের বাইরে তাঁর আরেকটি ভালোবাসার জায়গা হলো হস্তশিল্প। সুঁই-সুতা দিয়ে কিছু বানানো, পোশাক তৈরি, মাটির কাজ, ছবি আঁকা—এসব করতে খুব ভালোবাসেন তিনি। যদিও সময়ের অভাবে খুব বেশি করা হয় না, তবুও অবসর পেলেই এসব সৃজনশীল কাজে ডুবে থাকতে পছন্দ করেন।

তাঁর মতে, কোরবানি মানে শুধু পশু কোরবানি নয়, নিজের ভেতরের খারাপ অভ্যাস, অহংকার, নেতিবাচকতা আর বিষাক্ত চিন্তাভাবনাকেও ত্যাগ করা

সবশেষে সাফা কবিরের বার্তা ছিল খুবই অর্থবহ। তাঁর মতে, কোরবানি মানে শুধু পশু কোরবানি নয়, নিজের ভেতরের খারাপ অভ্যাস, অহংকার, নেতিবাচকতা আর বিষাক্ত চিন্তাভাবনাকেও ত্যাগ করা। সমাজে বেড়ে যাওয়া সহিংসতা, বিদ্বেষ আর নেতিবাচক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে মানুষ যেন নতুনভাবে জীবন শুরু করে—সেই আহ্বানই জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে সবাইকে নিরাপদ, সুন্দর ও আনন্দময় ঈদের শুভেচ্ছাও জানান এই অভিনেত্রী।

ছবি: সাফা কবির

Read full story at source