পশুর হাটে শেষ মুহূর্তের কেনাবেচায় বৃষ্টির বাগড়া, ক্রেতা-বিক্রেতার দুর্ভোগ

· Prothom Alo

রীতিমতো বৃষ্টির সঙ্গে যেন লুকোচুরি চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার। সকাল থেকে টানা বৃষ্টি ঝরছে। কখনো কখনো দমকা বাতাস বইছে। ঘরের বাইরে পা ফেলতেই অনেকেই থমকে যাচ্ছেন। কখন বৃষ্টি থামবে, সেই অপেক্ষা। কিন্তু উপায় নেই—রাত পোহালেই কোরবানির ঈদ। যাঁদের এখনো কোরবানির পশু কেনা বাকি, তাঁদের বৃষ্টি থামার অপেক্ষা না করেই হাটের দিকে ছুটতে হচ্ছে।

Visit playerbros.org for more information.

বৃষ্টি ও কাদাপানির মধ্যেই ক্রেতা-বিক্রেতা এসে ভিড় করছেন মৌলভীবাজার শহরের কাশীনাথ আলাউদ্দিন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠের হাটে। এটিই শহরের মধ্যে কোরবানির পশুর একমাত্র হাট। ঈদের আগে শেষ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার স্বাভাবিক কেনাবেচায় বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। ভোগান্তি হলেও কাদাপানি মাড়িয়ে পশু কিনছেন সবাই।

সকাল থেকেই টানা বৃষ্টির কারণে পশুর হাটের মাঠে কাদাপানি জমে গেছে। এতে পশু বেচাকেনায় ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বেলা দুইটার পর থেকে বৃষ্টি থামলেও আকাশ এখনো মেঘে ঢাকা। গরু বিক্রেতা মো. ইয়ারূপ বলেন, ‘বৃষ্টির লাগি (জন্য) বাজার ধ্বংস। দুই-তিন দিন ধরি মেঘ (বৃষ্টি) ছাড়ারই না (থামছে না)। অখন একটু ছাড়াইছে (থামছে)।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতাদের উপস্থিতি অনেক কম। যাঁরা আসছেন, তাঁরা ছোট গরুর দিকে ঝুঁকছেন। ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার গরুর চাহিদা বেশি। মঙ্গলবার গরু নিয়ে এসেও অনেকে আজ বিকেল পর্যন্ত একটাও গরু বিক্রি করতে পারেননি। অভাব বেড়ে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবার কম টাকা আসা ছাড়াও হাওরে ফসলডুবির পর অনেকে কোরবানি করছেন না। যাঁরা অন্য বছর দুই থেকে তিনটি গরু কোরবানি দিতেন—এবার তাঁরা একটার বেশি কোরবানি দিচ্ছেন না।

বেড়া আড়াইটার দিকে কাশীনাথ আলাউদ্দিন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কাদাপানিতে মাঠ থকথকে হয়ে গেছে। সবুজ ঘাসের তলায় পানি জমেছে। বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে পশুগুলো শামিয়ানার নিচে রাখা হয়েছে। কাদাপানির মধ্যেই ক্রেতারা বাজারে আসছেন। শুধু ক্রেতাই নন, একটার পর একটা ছোট-বড় গরু নিয়ে বিক্রেতারা হাটে ঢুকছেন। আজ শেষ রাত পর্যন্ত এ হাটে পশু কেনাবেচা চলবে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নড়িয়া থেকে পাঁচটি গরু নিয়ে গতকাল হাটে এসেছিলেন মো. ইয়ারূপ। একটি গরু ১ লাখ ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বাকি চারটি এখনো অবিক্রীত। ইয়ারূপ বলেন, ‘এবার বড় গরুর অবস্থা (বিক্রি) ভালা নাই। বাজার এবার বড় গরুর লাগি ডাউন। কাস্টমার কম। তবে এক লাখের নিচে ছোট গরু দামেই বিক্রি অর (হচ্ছে)।’

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে গরুগুলো কিনেছিলেন ইয়ারূপ। লালন–পালন করতে তাঁর প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ঘাসের পাশাপাশি ধানের খড়, ধানের গুঁড়া (কুড়া), চিটা ইত্যাদি খাইয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজকে দেখি বেচতাম পারি কি না—না বেচতে পারলে রাখি দিমু। দুই-তিন মাস পরে বেচমু। এখন অন্য কোনো দিকে (হাটে) নিয়া যাওয়ারও সময় নাই। শেষ পর্যন্ত অউ (এই) বাজারেই দেখতে অইবো (হবে)।’

জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও থেকে গতকাল ছয়টি গরু নিয়ে হাটে আসেন রাসেল মিয়া। তিনি বলেন, ‘একটাও বেচতাম পারছি না। আট মাস আগে যে দামে কিনছি, কাস্টমার অউ দামও কয় না। মানুষ এবার অভাবও। মিডলইস্টর অবস্থাও খারাপ। পানিতে ধানও ডুবছে। রাজনগরেই বেশি মানুষ ধানে ক্ষতিগ্রস্ত অইছে (হয়েছে)। এ ছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম মাইনসে এবার কোরবানি দের (দিচ্ছে)।’

Read full story at source