হাজার বছর ধরে হজ সফরের বৃত্তান্ত

· Prothom Alo

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দশম হিজরিতে হজ পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর উম্মতদের জন্য হজের করণীয়-বর্জনীয়র নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন। এটা ‘বিদায় হজ’ হিসেবে খ্যাত। এরপর থেকে দেড় হাজার বছর ধরে মুসলমানরা পবিত্র মক্কা নগরীতে যাচ্ছেন হজব্রত পালনের জন্য।

আর এই সময়কালে কোটি কোটি মুসলমান হজ করেছেন যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হজ সফরের অভিজ্ঞতা লিখেছেন ও লিখিয়েছেন।

Visit saltysenoritaaz.com for more information.

এসব বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার একটি বাছাইকৃত সংকলন হলো মিশেল উলফ সম্পাদিত ওয়ান থাউজেন্ড রোডস টু মক্কা: টেন সেঞ্চুরিস অভ ট্রাভেলার্স রাইটিং অ্যাবাউট দ্য মুসলিম পিলগ্রিমেজ (মক্কার দিকে হাজার পথ: মুসলমানদের তীর্থযাত্রার নিয়ে পর্যটকদের লেখার দশ শতক) বইটি।

দশম শতক থেকে শুরু করে বিশ শতক পর্যন্ত এক হাজার বছরে ২৫জন খ্যাত-অখ্যাত সফরকারীর হজ সফরের নির্বাচিত বিবরণী তুলে ধরা হয়েছে এতে।

সুফিসাধক নাসের খসরুর হজ সফরবইটির একটি প্রচ্ছদ

আমেরিকান কবি, লেখক ও গবেষক মিশেল উলফে ইহুদি পিতা ও খ্রিষ্টান মাতার সন্তান। ৪০ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।  হজ পালন করার পর হজ নিয়ে তাঁর বই দ্য হজ প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে।

এরপর তিনি শত শত বছর ধরে হজের জন্য মক্কা সফরকারী মুসলমানদের এবং বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে ও ছদ্মবেশে মক্কা সফরকারী অমুসলমানদের লেখা ঘাঁটতে থাকেন। এসব ঘাঁটতে গিয়ে তাঁর একটি সংকলন প্রস্তুত করার চিন্তা আসে যার ফসল উক্ত বইটি যা প্রথম ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।

দেড় যুগ পরে ২০১৫ সালে এর পরিমার্জিত ও বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত যার মুখবন্ধ লিখেছেন বিখ্যাত লেখক-গবেষক রেজা আসলান।

সাড়ে সাতশ পৃষ্ঠার ঢাউস বইটির প্রথমভাগে দশম শতকের তিন বিখ্যাত হজ সফরকারীর রচনার নির্বাচিত অংশ ছাপা হয়েছে ইংরেজিতে। তাঁরা হলেন: পারস্যের নাসির-ই খসরু (১০৫০), স্পেনের ইবনে জুবায়ের (১১৮৩-৮৪) এবং মরক্কোর ইবনে বতুতা (১৩২৬)।

যেভাবে সম্পন্ন হয় মহানবী (সা.)–এর বিদায় হজ
পঞ্চমভাগে বিমানযোগে হজ সফরকারী সাতজনের অভিজ্ঞতার বর্ণনা লিপিবদ্ধ হয়েছে যাঁদের মধ্যে মিশেল উলফ নিজেও আছেন।

দ্বিতীয়ভাগে চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যে ইতালী, ইংল্যান্ড, স্পেন, সুইজারল্যান্ড ও বোলোগনার (ইতালির উত্তরাঞ্চল) পাঁচজন মক্কা সফরকারীর ভ্রমণকাহিনী গ্রন্থিত হয়েছে। এই পাঁচজনের মধ্যে একজন ছিলেন মুসলমান, তিনজন খ্রিষ্টান। আর পঞ্চমজনের পরিচয় জানা যায়নি।

তৃতীয়ভাগে স্থান পেয়েছে গ্রেট ব্রিটেনের স্যার রিচার্ড বার্টন (১৮৫৩), হিন্দুস্তানের ভূপালের বেগম সিকান্দারা (১৮৬৪), অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান জন এফ কিয়েনি (১৮৭৭-৭৮), পারস্যের মুহাম্মদ হোসেন ফারহানি (১৮৮৫-৮৬) এবং অ্যাংলো-আফ্রিকান আর্থার জে বি ওয়েবলের (১৯০৮) সফরনামা থেকে বাছাই করা অংশ।

চতুর্থভাগে উনিশ শতক গ্রেট ব্রিটেন, স্পেনের স্বায়ত্বশাসিত গ্যালিসিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার পাঁচজনের ভ্রমণের অংশবিশেষ দেয়া হয়েছে। পঞ্চমভাগে বিমানযোগে হজ সফরকারী সাতজনের অভিজ্ঞতার বর্ণনা লিপিবদ্ধ হয়েছে যাঁদের মধ্যে মিশেল উলফ নিজেও আছেন।

  • ওয়ান থাউজেন্ড রোডস টু মক্কা: টেন সেঞ্চুরিস অভ ট্রাভেলার্স রাইটিং অ্যাবাউট দ্য মুসলিম পিলগ্রিমেজ; মিশেল উলফ (সম্পাদক), গ্রোভ প্রেস, নিউইয়র্ক, ২০১৫।

জর্ডানের হজ পথের প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষা

Read full story at source