দ্রুত নতুন জিনিস শেখার ৫টি দারুণ উপায়
· Prothom Alo

নতুন জিনিস দ্রুত শিখে ফেলা একটা দারুণ ক্ষমতা। যে কাউকে পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা ভবিষ্যতের কর্মজীবনে এটি এগিয়ে রাখে। নতুন কিছু শেখার অভ্যাস মানুষকে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে সাহায্য করে। শুধু তা–ই নয়, এর মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে সহজে বন্ধুত্ব করার নানা উপায় খুঁজে পাওয়া যায়। চারপাশের পৃথিবীটা প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে। এই বদলে যাওয়া পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সহজে সামনে এগিয়ে যাওয়ার উপায় হলো নিয়মিত নতুন নতুন জিনিস শেখা। নানা গবেষণায় এমন ৫টি দারুণ উপায় পাওয়া গেছে, যা যেকোনো নতুন বিষয় খুব দ্রুত শিখতে ও তা দীর্ঘদিন মনে রাখতে সাহায্য করে। চলো তাহলে জেনে নেওয়া যাক দারুণ সেই উপায়গুলো।
১. অন্যকে শেখাও
Visit bettingx.club for more information.
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণা করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, তুমি যা পড়ছ তা অন্য কাউকে বুঝিয়ে বলার কথা মনে মনে কল্পনা করলে শেখার গতি অনেক বেড়ে যায়। শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য মুখস্থ করার চেয়ে এই পদ্ধতিটি অনেক বেশি কার্যকর। এটি মস্তিষ্ককে নতুন তথ্য সহজে মনে রাখতে সাহায্য করে।
তাই কোনো কঠিন বিষয় শিখতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে এই ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করতে পারো। কোনো নতুন ভাষা বা গণিতের সূত্র তোমার চেয়ে কম জানা বন্ধুদের শেখানোর চেষ্টা করো। কাউকে শেখাতে গেলে নিজের মাথায় পড়াটা একদম পরিষ্কার হয়ে যায়। এই সহজ কৌশলটি নিজের শেখার প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করবে।
কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক যেভাবে দুই শ রাজ পেঙ্গুইন সংরক্ষণ করলেন২. পড়ার মধ্যে বিরতি
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব লুইজিয়ানার গবেষকদের মতে, নতুন কোনো বিষয় পড়ার জন্য একটানা ৩০ থেকে ৫০ মিনিট সময় নেওয়া উচিত। এর চেয়ে কম সময়ে পড়া ঠিকমতো মাথায় ঢোকে না। আবার ৫০ মিনিটের বেশি একটানা পড়লে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই প্রতিবার পড়ার পর ৫ থেকে ১০ মিনিটের একটি ছোট বিরতি নেওয়া জরুরি। মানসিক ক্লান্তি বা মাথা গরম থাকা অবস্থায় নতুন কিছু শেখা প্রায় অসম্ভব। তাই পড়াশোনার মধ্যে নিজের মাথার বিশ্রাম দিতে হবে।
৩. নোট লিখতে হবে হাতে
ল্যাপটপ বা মোবাইলে টাইপ করে নোট নেওয়া দ্রুত হতে পারে। তবে কলম ও কাগজ ব্যবহার করে হাতে লিখলে যেকোনো বিষয় আরও ভালোভাবে শেখা ও বোঝা যায়। প্রিন্সটন এবং ইউসিএলএর গবেষকেরা দেখেছেন, যেসব শিক্ষার্থী হাতে লিখে নোট নেয়, তারা পড়া অনেক বেশি মনোযোগ দিয়ে শোনে।
ফলে তারা মূল বিষয়গুলো সহজে মনে রাখতে পারে। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পাম মুলার জানান, ল্যাপটপে নোট নেওয়ার একটি খারাপ দিক আছে। শিক্ষার্থীরা সাধারণত শিক্ষকের বক্তৃতার অর্থ না বুঝে প্রতিটি শব্দ হুবহু টাইপ করার চেষ্টা করে। নিজের ভাষায় গুছিয়ে না লেখার এই অভ্যাসটি পড়াশোনার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মস্তিষ্ক কীভাবে বোঝে কোনটা সুগন্ধ, কোনটা দুর্গন্ধ৪. পড়ার মাধ্যে ঘুমাতে ভয় পাবে না
নতুন কোনো পড়া বা তথ্য মনে রাখার জন্য আমাদের মস্তিষ্কের একটু বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, পড়াশোনার মাঝের সময়টাতে একটু ঘুমিয়ে নিলে পড়া খুব দ্রুত মাথায় ঢোকে। ফ্রান্সে এটা নিয়ে একটি পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে দুটি দলকে ১৬টি নতুন বিদেশি শব্দ শেখানো হয়। প্রথম দলটি একই দিনে সকালে ও সন্ধ্যায় পড়াশোনা করে। আর দ্বিতীয় দলটি সন্ধ্যায় পড়ার পর রাতে ভালোমতো ঘুমিয়ে নেয় এবং পরদিন সকালে আবার পড়তে বসে। পরে দেখা গেল, যারা রাতে ঘুমিয়েছিল তারা ১৬টি শব্দের মধ্যে ১০টিই মনে রাখতে পেরেছে। কিন্তু যারা ঘুমায়নি, তারা গড়ে মাত্র ৭ থেকে ৮টি শব্দ মনে করতে পেরেছে। এই পরীক্ষা থেকে বোঝা যায়, পড়ার মাঝে ঘুমিয়ে নিলে পড়া যেমন দ্রুত মুখস্থ হয়, তেমনি তা সহজে ভুলেও যাবে না।
৫. পড়ার পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলেন, নতুন কোনো কাজ বা পড়া শেখার সময় প্রতিবার একই নিয়মে চর্চা না করে পদ্ধতি একটু বদলে নেওয়া ভালো। তাঁদের একটি পরীক্ষায় কিছু ছাত্রকে কম্পিউটারের একটি কাজ শেখানো হয়েছিল। দ্বিতীয়বার অনুশীলনের সময় যারা একটু ভিন্ন বা নতুন টেকনিক ব্যবহার করেছিল। তারা পুরোনো নিয়ম ধরে রাখা ছাত্রদের চেয়ে দ্বিগুণ ভালো ফল করে। গবেষকদের মতে, একটানা একই নিয়মে মুখস্থ করার চেয়ে প্রতিবার পড়ার বা অনুশীলনের পদ্ধতিতে ছোট ছোট পরিবর্তন আনলে মস্তিষ্ক অনেক বেশি সচল থাকে।
সূত্র: রিডস্টাডিমানুষের আঙুলের ছাপ কি কখনো বদলায়