হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি হলের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ, রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ
· Prothom Alo

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ববিরোধের জেরে শহীদ নুর হোসেন হল ও শহীদ আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে একজন শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
পরে বেলা তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন নুর হোসেন হলের শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কের উভয় পাশে কয়েক শ গাড়ি আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় রাত ৯টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।
Visit afsport.lat for more information.
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আজ দুপুরে শহীদ নুর হোসেন হলে থাকা ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আল ফিমান খেলা দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল মাঠে। সেখানে পূর্বশত্রুতার জেরে আবরার ফাহাদ হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে মারধর করেন।
ওই ঘটনা জানতে পেরে নুর হোসেন হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী টিএসসি থেকে আবরার ফাহাদ হলের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর করেন। এরপর লাঠিসোঁটা নিয়ে আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীরা নুর হোসেন হলে হামলা চালান। তাঁরা নুর হোসেন হলের জানালার কাচ, ক্যারম বোর্ড ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এ সময় প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মবিনুল ইসলাম তাঁদের ঠেকাতে গেলে তিনি চোখে আঘাত পান।
পরে বেলা তিনটার দিকে নুর হোসেন হলের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাঁরা বেঞ্চ রেখে ও টায়ার জ্বালিয়ে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, হলের কক্ষ থেকে মুঠোফোন ও ল্যাপটপ চুরি হয়েছে।
নাঈম ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কিছুদিন ধরে ঘনঘন এমন মারামারির ঘটনা ঘটছে। ঠুনকো বিষয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা এবং স্বাভাবিক পরিবেশের বিঘ্ন ঘটছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নওশের ওয়ান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঠুনকো বিষয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) নুরুন্নবী বলেন, সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। শিক্ষকেরা বিষয়টির সমাধানে মিটিং করছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য আমরা ঘটনাস্থলে আছি।’