নজর কাড়ছে ৭৬ কেজির ছাগল, খামারে দর্শনার্থীদের ভিড়
· Prothom Alo

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তিনটি বিশাল আকৃতির ছাগল। দূর থেকে দেখে মনে হয় ছোটখাটো ঘোড়া। কিন্তু কাছে যেতেই বোঝা যায়, এগুলো ঘোড়া নয়, ছাগল। একেকটির ওজন ৫৪ থেকে ৭৬ কেজি। বিশাল আকৃতির ছাগলগুলো ইতিমধ্যে এলাকার মানুষের নজর কেড়েছে। এগুলো এখন সাতক্ষীরার ঈদবাজারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
Visit turconews.click for more information.
সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকার আমিরুল ইসলামের খামারে বেড়ে ওঠা ছাগলগুলো দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ–বা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ঈদকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হলেও আমিরুলের ছাগল তিনটি আলাদা করেই নজর কেড়েছে।
খামারের মালিক আমিরুল ইসলাম পেশায় একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বিদেশি জাহাজে কাজ করছেন। ছুটিতে দেশে এসে প্রায় ৬ বছর আগে শখের বশে ২৮ হাজার টাকা দিয়ে ১টি পুরুষ ছাগল এবং ১২ হাজার টাকা করে ২টি মাদি ছাগল কিনে খামার শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেই ছোট উদ্যোগ এখন বড় পরিসরে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তাঁর আট বিঘা জমিতে গাছপালা, মাছের পুকুর ও কবুতরের খামারের পাশাপাশি ছাগলের খামারে ৩৮টি ছাগল আছে। আর দেড় বিঘা জমিতে ছাগলের খাবারের জন্য নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে আমিরুলের খামারে গিয়ে দেখা যায়, কালো, খয়েরি ও সাদা রঙের বড় তিনটি ছাগল। তাদের পরিচ্ছন্ন আলাদা ঘরে রাখা হয়েছে। দুপুর হলেই গোসল করানো হয়। নির্দিষ্ট সময়ে দেওয়া হয় খাবার। দেখে মনে হয়, যেন পরিবারের সদস্য।
সাদা ছাগলটির ওজন ৭৬ কেজি, খয়েরিটি ৬৪ কেজি এবং কালোটির ওজন ৫৪ কেজি। তিনজন কর্মচারী সার্বক্ষণিক এগুলোর দেখভাল করেনআমিরুল ইসলাম জানান, ঈদুল আজহা সামনে রেখে তিন বছর ধরে বিশেষভাবে কয়েকটি বড় ছাগল প্রস্তুত করেছেন। এবার করেছেন তিনটি ছাগল। এর মধ্যে সাদা ছাগলটির ওজন ৭৬ কেজি, খয়েরিটি ৬৪ কেজি এবং কালোটির ওজন ৫৪ কেজি। তিনজন কর্মচারী সার্বক্ষণিক এগুলোর দেখভাল করেন। গোসল করানো থেকে শুরু করে খাওয়ানো—সবকিছুতেই বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। প্রতিদিন তিনবার বিশেষ খাবার (ভুসি, কুঁড়া, পালিশ, সয়াবিন খইল ও তাজা ঘাস) দেওয়া হয়। প্রতিদিন তিনটি ছাগলের খাবারের জন্য প্রায় ৩০০ টাকা খরচ হয়।
জীবন্ত অবস্থায় ওজন করে প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে ছাগলগুলো বিক্রি করতে চান আমিরুল ইসলাম। ইতিমধ্যে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু খয়েরি রঙের ছাগলটি কিনে নিয়েছেন। প্রতি কেজি ৭০০ টাকা করে দাম পড়েছে ৪৪ হাজার ৮০০ টাকা। তবে ছাগলটি তিনি এখনো নিয়ে যাননি।
প্রায় দুই মণ ওজনের ছাগল দেখতে আমিরুলের খামারে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকে ভিডিও দেখে এসেছি। সরাসরি দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। এত বড় ছাগল আমাদের দিকে খুব একটা দেখা মেলে না।’ কলেজছাত্র শাওন হোসেন বলেন, ‘ছাগলগুলো শুধু বড়ই নয়, খুব সুন্দর। দেখলে মায়ায় জড়িয়ে যেতে হয়। দেখলেই বোঝা যায়, খুব যত্ন নেওয়া হয়।’
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, দেশে সাধারণত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন করেন সবাই। তবে কেউ কেউ ক্রস জাতের ছাগল পালন করছেন। এই জাতের ছাগল অনেক বড় হয়। খরচ ও পরিশ্রম একটু বেশি হলেও এ ধরনের ছাগলের প্রচুর চাহিদা আছে।