একেক দেশের মোবাইল নম্বর একেক রকম হয় কেন

· Prothom Alo

কাউকে প্রথমবার ফোন করতে গেলে দরকার হয় ফোন নম্বর। খেয়াল করলে দেখবে, আমাদের দেশের মোবাইল নম্বরগুলো দেখতে যেমন, অন্য দেশের নম্বর কিন্তু তেমন নয়। কোনো দেশের মোবাইল নম্বর ১০ ডিজিটের, আবার কোনোটি ১৩ ডিজিটের।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

দেশভেদে মোবাইল নম্বরের এই বৈচিত্র্য কেবল সংখ্যার খেলা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক টেলিকম নীতিমালা, দেশের জনসংখ্যা এবং সেই দেশের যোগাযোগব্যবস্থার ইতিহাস।

কেন সব দেশে একই দৈর্ঘ্যের নম্বর ব্যবহার করা হয় না? কিংবা কেন একেক দেশের শুরুর ডিজিটগুলো একেক রকম বড় বা ছোট হয়? এই কৌতূহল মেটাতে আমাদের জানতে হবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগের কিছু নিয়ম এবং কীভাবে একটি নম্বর কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে তোমার পরিচয় আলাদা করে দেয়।

শরীর থেকে খসে পড়া চামড়া থেকে যেভাবে তৈরি হয় ঘরের ধুলা

মোবাইল নম্বরের শুরুর যাত্রা

টেলিফোনের শুরুর দিনগুলোতে আজকের মতো কোনো নির্দিষ্ট নম্বর ছিল না। তখন প্রতিটি শহরে একজন করে ‘অপারেটর’ থাকতেন। কাউকে ফোন করতে চাইলে অপারেটরকে শুধু নাম বললেই হতো, যেমন ‘আমি অনিকের সঙ্গে কথা বলতে চাই’। অপারেটর তখন ম্যানুয়ালি তারের সংযোগ বদলে কলটি সেই ব্যক্তির ফোনের সঙ্গে জুড়ে দিতেন।

তখনকার ফোনগুলো বাসাবাড়িতে তারের সংযোগের মাধ্যমে যুক্ত থাকত। অপারেটরের কাজ ছিল ফোন কলগুলো নির্দিষ্ট প্রাপকের তারের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে দেওয়া।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: জাপানি চিপসের প্যাকেট থেকে হারিয়ে গেছে রং

প্রথম স্বয়ংক্রিয় ফোন এক্সচেঞ্জ

জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপারেটরদের পক্ষে আর সবার নাম মনে রাখা সম্ভব হলো না। এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেন মিজৌরির একজন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালক অ্যালমন ব্রাউন স্ট্রোজার। অপারেটররা ভুল করে অন্য জায়গায় কল সংযোগ দিচ্ছে, এমন দুশ্চিন্তা থেকে তিনি ১৮৯১ সালে বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় ফোন এক্সচেঞ্জ আবিষ্কার করেন। এই যন্ত্রে কলার বোতাম টিপে কাঙ্ক্ষিত নম্বরের সংকেত পাঠাতেন এবং একটি ঘূর্ণায়মান বাহু স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই লাইনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করত।

১৮৯২ সালে এই পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকেই মানুষের নামের বদলে ৩ বা ৪ ডিজিটের নম্বর ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। পরবর্তী সময় এতে ‘রোটারি ডায়াল’ যুক্ত হয়, যা ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ছিল।

১৯৭৩ সালে যখন মার্টিন কুপার প্রথম মোবাইল কল করেন, তখন মোবাইল নম্বরগুলো আলাদা কিছু ছিল না, বরং ল্যান্ডলাইনেরই একটি বর্ধিত অংশ হিসেবে কাজ করত। তখন ব্যবহারকারী খুব কম থাকায় আজকের মতো আলাদা মোবাইল কোডের প্রয়োজন পড়েনি।

গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আম: কোনটা কীভাবে চিনবে

আধুনিক মোবাইল নম্বর ও আন্তর্জাতিক নিয়ম

আশির দশকের পর যখন মোবাইল গ্রাহক দ্রুত বাড়তে শুরু করল। তখন দেখা দিল এক বড় সমস্যা। এক এলাকার নম্বর অন্য এলাকার নম্বরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে আইটিইউ (ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন) এগিয়ে আসে। তারা দেশগুলোকে আলাদা কান্ট্রি কোড দেয় এবং মোবাইল অপারেটরদের জন্য আলাদা সিরিয়াল যেমন বাংলাদেশে ০১৭ বা ০১৯ বরাদ্দ করে।

প্রতিটি মোবাইল নম্বরের তিনটি অংশ থাকে। প্রথমে কান্ট্রি কোড, তারপর অপারেটর কোড আর শেষে গ্রাহকের নম্বর। আইটিইউয়ের একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। যাকে বলে ই.১৬৪।

এই নিয়ম অনুযায়ী, কান্ট্রি কোডসহ একটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোন নম্বর সর্বোচ্চ ১৫ ডিজিটের হতে পারবে। এর বেশি হওয়া সম্ভব নয়। এই সীমার মধ্যে থেকে প্রতিটি দেশ নিজেদের প্রয়োজনমতো নম্বরের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করে। যে দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, সেই দেশ তত বেশি ডিজিটের মোবাইল নম্বর রাখার চেষ্টা করে।

নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি নম্বরের শুরুতেই একটি প্লাস (+) চিহ্ন এবং দেশের কোড থাকতে হবে, যেমন বাংলাদেশের জন্য +৮৮০।

‘এলিয়েন’ সিনেমার রহস্যময় পাহাড়ে পর্যটকেরা কেন ভিড় করেন

১৫টি ডিজিট কেন

এখন তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কেন ১৫ ডিজিট পর্যন্তই নেওয়া হয়েছে, এর থেকে কম বা বেশি কেন নেওয়া হয়নি? তোমার মনে হতে পারে সংখ্যা দৈবভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। তবে এমনটা হয়নি, ১৫ ডিজিট নেওয়ার পেছনে কোনো দৈবচয়ন নয়, বরং নিখুঁত গাণিতিক হিসাব এবং তৎকালীন প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা কাজ করেছে।

১৫টি ডিজিট দিয়ে ১ কোয়াড্রিলিয়নসংখ্যক অনন্য নম্বর তৈরি করা সম্ভব। ১ কোয়াড্রিলিয়ন অর্থাৎ ১–এর পরে ১৫টি শূন্য বসিয়ে যে সংখ্যাটি পাওয়া যায়, যা ১ হাজার ট্রিলিয়ন বা ১০০ লাখ কোটির সমান।

নম্বরটি যদি ১৫ ডিজিটের বেশি হতো, তবে নব্বইয়ের দশকের পুরোনো নেটওয়ার্কের পক্ষে তা প্রসেস করা কঠিন হতো এবং কল কানেক্ট হতেও বেশি সময় লাগত। আবার মানুষের মনে রাখার ক্ষমতার কথা ভেবেও এটিকে খুব বেশি বড় করা হয়নি, কারণ, গবেষণায় দেখা গেছে মানুষ সাধারণত ১০ থেকে ১১ ডিজিটের বেশি মনে রাখতে পারে না। মজার ব্যাপার হলো ১৯৬৪ সালে এই সীমা ছিল মাত্র ১২ ডিজিট, যা মোবাইল ফোনের বিস্তার ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ার পর ১৯৯৭ সালে বাড়িয়ে ১৫ করা হয়। ১৫টি ডিজিট হলো এমন এক ‘সুইট স্পট’, যা আগামী ১০০ বছরেও ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় নেই, আবার মানুষের ব্যবহারের জন্যও খুব বেশি জটিল নয়।

এখন পর্যন্ত কোনো দেশ ১৫টি ডিজিট পুরোপুরি ব্যবহার করার সুযোগ পায়নি। চীন বা জার্মানির মতো কিছু দেশের নম্বর কান্ট্রি কোডসহ ১৪ ডিজিট পর্যন্ত পৌঁছায়, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যবহৃত ডিজিট। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র নিউয়েতে একসময় মাত্র ৪ ডিজিটের মোবাইল নম্বর (কান্ট্রি কোড বাদে) ব্যবহার করা হতো। তবে বর্তমানে সেখানে সাধারণত ৫ ডিজিটের নম্বর ব্যবহৃত হয়। নিউয়ের মোট জনসংখ্যা দুই হাজারের কম। এত কম মানুষের জন্য ১০ থেকে ১১ ডিজিটের বিশাল নম্বরের কোনো প্রয়োজনই নেই।

সূত্র: ক্লিয়ারআউট ফোন, জিমডো, ন্যাশনাল ইনভেন্টরস হল অব ফেম

পারমাণবিক বিপর্যয় হলে কেন সূর্যমুখীর গাছ লাগানো হয়

Read full story at source