রাজশাহীতে ‘চাঁদা’ না দেওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ, প্রকল্প উদ্যোক্তাকে অপহরণচেষ্টার অভিযোগ
· Prothom Alo

রাজশাহীতে একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের কাজ বন্ধ করে চাঁদা দাবি এবং প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে অপহরণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, পাশের একটি ভবনে ফাটল ধরায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী মোস্তাফিজুর রহমান নগরের শিরোইল রেলস্টেশন–সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ‘রাজশাহী টাওয়ার’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক। তিনি বলেন, ১০০ জন সদস্যের যৌথ উদ্যোগে ভবনটির নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পের পাশেই ‘হকস ইন’ নামে একটি আবাসিক হোটেল আছে। ওই হোটেলের মালিক এনাজুল হক ভবনের ক্ষয়ক্ষতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে শুরু থেকেই ২৬ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন।
Visit sweetbonanza.qpon for more information.
মোস্তাফিজুরের অভিযোগ, এর আগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) পরিদর্শকেরা হোটেল ভবনটি পরিদর্শন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাননি। এরপরও নির্মাণকাজ সচল রাখতে বিভিন্ন সময়ে এনাজুল হককে মোট ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গতকাল বুধবার দুপুরে ভবনটির ঢালাই চলার সময় এনাজুল দলবল নিয়ে নির্মাণস্থলে আসেন। তিনি কাজ বন্ধ করে দেন এবং বাকি টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে মোস্তাফিজুরকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে শ্রমিক ও সাইট ইঞ্জিনিয়ারদের বাধায় তিনি রক্ষা পান।
এ প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুরের ভাষ্য, ‘টাকা না পেয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ধাক্কাধাক্কিও করা হয়েছে। অপহরণেরও চেষ্টা করা হয়েছে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এনাজুল হক বলেন, পাশের ভবনের নির্মাণকাজের কারণে তাঁর হোটেল ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ২৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা না পাওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।
এনাজুলের দাবি, ‘আমি কোনো চাঁদাবাজি করিনি। আমার ক্ষতিপূরণের টাকা চাইছি।’
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।