তরুণদের সিগারেট থেকে দূরে রাখতে দরকার কর বাড়ানো, আইনের সঠিক বাস্তবায়ন: হোসেন জিল্লুর রহমান
· Prothom Alo

কর বাড়ানো, আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও জনস্বাস্থ্য–সচেতনতার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সিগারেটসহ তামাকপণ্য থেকে অনেকটা দূরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। এ জন্য তিনি আসন্ন জাতীয় বাজেটে সিগারেটসহ তামাকপণ্যে কর বাড়ানোর দাবি জানান।
আজ রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান হোসেন জিল্লুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। হোসেন জিল্লুর রহমান পিপিআরসির চেয়ারম্যান।
Visit sport-tr.bet for more information.
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কর বাড়ালে তামাকপণ্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টা আরও এগোবে। কর বাড়ালে তরুণ প্রজন্মকে সিগারেট থেকে রক্ষা করার কাজে একটু এগিয়ে থাকা যাবে। কর বাড়ালে সরকারের রাজস্ব বাড়বে, সেখান থেকে জনস্বাস্থ্যে ব্যয় করা যাবে। ‘জনস্বাস্থ্য বনাম রাজস্ব’ নিয়ে যে বিতর্ক, তার সুচিন্তিত একটি সমাধান এখানে সম্ভব।
তামাকপণ্যের ব্যবহার রোধে কেবল কর বাড়ালেই হবে না বলে মনে করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, একই সঙ্গে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে সংসদে আইন পাসের সময় বিষয়টি তুলে দেওয়া হয়। কেন বাদ দেওয়া হলো, তার কোনো ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি। এটা পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ হয়ে গেল।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য ‘তামাক কর প্রস্তাব’ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাফিউন নাহিন শিমুল। বর্তমানে ১০ শলাকা প্যাকেটের যে সিগারেটের দাম ৬০ ও ৮০ টাকা, বাজেটে তার দাম ১০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ১৪০ টাকা দামের প্যাকেটের দাম ১৫০ টাকা, ১২৫ টাকার প্যাকেটের দাম ২০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।
শাফিউন নাহিন বলেন, প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কয়েকটি ফলাফল প্রত্যাশা করা যেতে পারে। আর তা হলো—প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবেন। ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবেন। দীর্ঘ মেয়াদে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৮ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৫ তরুণের অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। তামাক ব্যবহারের হার প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমবে। ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ‘তামাক কর’ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সায়েদ মো. আকরাম হুসাইন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত রোগে অকালে মৃত্যুবরণ করেন। তা ছাড়া বেশির ভাগ ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তামাকের ব্যবহার।