বাংলাদেশ ফুটবল লিগে সার্ক কোটা বাতিলের দাবি খেলোয়াড়দের

· Prothom Alo

স্থানীয় ফুটবলারদের খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে আগামী মৌসুম থেকে ঘরোয়া ফুটবলের ‘সার্ক কোটা’ বাতিলের দাবি জানিয়েছে ফুটবলারদের একটি অংশ। আজ বাফুফে সভাপতি বরাবর লেখা এ–সংক্রান্ত একটি আবেদনপত্র সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনের হাতে তুলে দেয় তারা। লিগে দল বাড়ানো, বিদেশি কোটা কমানো এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়াসহ ফেডারেশনের কাছে মোট ছয়টি দাবি জানিয়েছেন ফুটবলাররা।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির প্যাডে সমিতির প্রধান সমন্বয়কারী আবুল হোসেন স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে ফুটবলারদের পক্ষে সই করেন আহসান হাবিব, আলমগীর কবির রানা, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও মেহেদি মিঠু।

আবেদনপত্র নিয়ে বাফুফে ভবনে উপস্থিত ৩০-৪০ জন ফুটবলারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আবাহনী ও মোহামেডানের মিতুল মারমা, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মিরাজুল ইসলাম, রহমত মিয়া ও শাকিল আহাদ তপু। তবে বসুন্ধরা কিংস, ফর্টিস এফসি, পুলিশ এফসি বা ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাউকে দেখা যায়নি।

চলতি মৌসুমে চালু হওয়া বাফুফের নিয়ম অনুযায়ী ঘরোয়া ফুটবলে সার্ক কোটায় একটি দল চাইলে সার্কভুক্ত দেশের সর্বোচ্চ ৫ জন খেলোয়াড়কে ‘স্থানীয় খেলোয়াড়’ হিসেবে খেলাতে পারবে। সার্কের বাইরে দেশ থেকে আরও তিনজন খেলোয়াড় খেলানো যাচ্ছে বিদেশি হিসেবে। বিদেশিদের আধিপত্যে তাই মাঠের ১১ ফুটবলারের মধ্যে স্থানীয়দের সুযোগ বেশ কমে গেছে। যদিও ১০ দলের মধ্যে কিংস, আবাহনী, মোহামেডানসহ অর্ধেকই এই সুবিধা নেয়নি।

আবার ব্রাদার্স ইউনিয়ন সুযোগটা পুরোপুরিই নিচ্ছে। লিগের প্রথম পর্বে ৪ জন নেপালি ফুটবলার আনে তারা। তাঁদের বদলে দ্বিতীয় পর্বে এসেছেন পাঁচজন পাকিস্তানি। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানি মোহাম্মদ হাইয়ান খাট্টাকের গোলেই ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সকে হারিয়ে ফেডারেশন কাপের শেষ চারে উঠেছে ব্রাদার্স।

মোহামেডান ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ মনে করে সার্ক কোটায় ক্ষতি হচ্ছে দেশের ফুটবলের। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘সার্ক কোটার কারণে স্থানীয় ফুটবলাররা সুযোগ পাচ্ছেন না। এভাবে চললে জাতীয় দল ভালো খেলোয়াড় পাবে না।’

দেশের শীর্ষ লিগে সার্কের সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় নিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন

আরেক ডিফেন্ডার রহমত মিয়ার আক্ষেপ, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এই নিয়ম চালু করলেও শুধু তারিক কাজী ছাড়া (ভুটানের ক্লাবে) বাংলাদেশের কোনো ফুটবলার অন্য দেশের লিগে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না।’

ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমের খান মুদ্রার দুই পিঠই দেখতে চাইছেন, ‘খেলোয়াড়দের স্বার্থ দেখলে সার্ক কোটা বাতিল করা উচিত। তবে ক্লাবের কথা চিন্তা করলে বলব, কম টাকায় সার্কের ভালো ভালো খেলোয়াড়দের নিতে পারাটা ক্লাবের জন্য ভালো।’

বাফুফে অবশ্য এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। পেশাদার লিগ কমিটির কো-চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ১৯ এপ্রিল বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ওদিকে, ২৩ মে লিগ শেষে ১ জুন নতুন মৌসুমের দলবদল শুরু হবে। নতুন খসড়া সূচিতে লিগ ও ফেডারেশন কাপের পাশাপাশি সুপার কাপ এবং স্বাধীনতা কাপ দুটিই রাখা হয়েছে। চলতি মৌসুমেও অবশ্য টুর্নামেন্ট দুটি সূচিতে ছিল। লিগের মাঝপথে সুপার কাপ আর লিগ শেষে শুধু স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে স্বাধীনতা কাপ করার কথা ছিল। কিন্তু জাতীয় দলের ক্যাম্পের বিরতিতে অনেক সময় নষ্ট হওয়ায় টুর্নামেন্ট দুটি আয়োজন করা যাচ্ছে না।

আরামবাগকে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখল কিংস, দুইয়ে আবার ফর্টিস

Read full story at source