তেল চোর ধরিয়ে দেওয়ায় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা, মানববন্ধনে ছিলেন অভিযুক্ত একজনও

· Prothom Alo

নড়াইল সদর উপজেলায় তেল চুরির প্রতিবাদ করায় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের হাতিয়াড়া বাজারে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত একজনও উপস্থিত ছিলেন।

Visit afsport.lat for more information.

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, ২৬ মার্চ রাতে হাতিয়াড়া এলাকায় খাল পুনঃখননের কাজে নিয়োজিত একটি খননযন্ত্র থেকে তেল চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রীতম পাল, অসীম বিশ্বাস ও বিকাশ বিশ্বাস জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। দুই দিন পর ২৮ মার্চ বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় খননযন্ত্রের মালিকপক্ষ তাঁদের হাতিয়াড়া বাজার থেকে আটক করে।

এ সময় উত্তেজিত জনতার মধ্যে কেউ কেউ তাঁদের মারধর করেন বলে জানা যায়। তবে অসীম বিশ্বাস সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে বাকি দুজনকে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে সোপর্দ করা হলেও সেখান থেকে তাঁরা ছাড়া পান।

এরপর ১ এপ্রিল অসীম বিশ্বাসকে মারধরের অভিযোগ তুলে তাঁর স্ত্রী নিপা বিশ্বাস বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখহাটি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মানববন্ধনকারীরা দাবি করেন, মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা কেউই অসীম বিশ্বাসকে মারধরে জড়িত নন। চুরির প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরতে সহযোগিতা করায় তাঁদের হয়রানির উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

মামলার আসামি ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুকান্ত গোস্বামী বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চুরির ঘটনা ঘটছিল, এতে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। চোরদের আটকের পর উত্তেজিত জনতা মারধর করলেও সেখানে বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা কেউ মারধরে জড়িত নন। চোর ধরতে সহায়তা করায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

খননযন্ত্রটির মালিকপক্ষের মোশাররফ হোসেন বলেন, তাঁর যন্ত্রের তেল চুরি হলেও তিনি বিচার পাননি। বরং যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত প্রীতম পালও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, না বুঝেই এ ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, অসীম ও বিকাশ তাঁকে ঘটনাস্থলের কাছে নিয়ে গিয়ে তেল কেনার কথা বলে কিছু তেল দেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি অন্যদের কাছে ওই দুজনের নাম প্রকাশ করেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর নামও মামলায় জড়ানো হয়েছে।

তবে অসীম বিশ্বাস চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এর (চুরির) কিচ্ছু জানি নে। আমি চোরকে ঘৃণা করি। যদি আমারে চোর প্রমাণ করতি পারে, আমি এই দেশেই থাকব না। শত্রুতার জের ধরে আমাকে পরিকল্পিতভাবে মেরেছে। যারা মেরেছে, তাদেরই আসামি করা হইছে।’

Read full story at source