ফিলিং স্টেশনে আঙুলে ‘অমোচনীয় কালি’ লাগিয়ে তেল বিক্রি
· Prothom Alo

জ্বালানিসংকটের মধ্যে রংপুরের তারাগঞ্জে ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এখন ফিলিং স্টেশনগুলোতে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে গ্রাহকদের হাতে অমোচনীয় কালি দিয়ে চিহ্নিত করার মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে আগের তুলনায় ভিড় অনেকটা কমেছে। গ্রাহকেরাও নির্দিষ্ট লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে তেল নিতে পেরে খুশি।
Visit freshyourfeel.org for more information.
রোববার বিকেল চারটার দিকে তারাগঞ্জ ফিলিং স্টেশন থেকে মোটরসাইকেলে পেট্রল নেওয়ার পর রহিমাপুর গ্রামের তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কাগজ দেখি আঙুলো কালি লাগে এক ঘণ্টাতে তেল দেওছে। আগোত তিন-চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়েও তেল পাওয়া গেছলো না ভিড়ের জন্য। আজকার ব্যবস্থাটা ভালোই লাগিল।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফিলিং স্টেশনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক জরুরি সভা করে প্রশাসন। সভায় তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো গ্রাহক তেল পাবেন না। জাতীয় পরিচয়পত্র ও গাড়ির কাগজপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একজন ব্যক্তি একবারে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল নিতে পারবেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ফিলিং স্টেশনের ভেতরে না ঢুকে বাইরে থেকে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যেখানে প্রত্যেক গ্রাহকের তেল নেওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কোন পাম্পে কতটুকু তেল মজুত আছে, কখন সরবরাহ করা হবে, সেই তথ্যও সেখানে দেওয়া হচ্ছে।
তারাগঞ্জ ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেখানে ভিড় লেগে থাকত, সেখানে এখন শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। তেল নেওয়ার সময় প্রত্যেক গ্রাহকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। এরপর হাতে কালি দিয়ে চিহ্ন দেওয়া হচ্ছে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিকবার তেল নিতে না পারেন।
ঘনিরামপুর গ্রামের মোটরসাইকেলচালক জামাল উদ্দিন বলেন, আগে তেল নিতে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। অনেকেই প্রয়োজনীয় কাগজ ছাড়া লাইনে দাঁড়িয়ে ভিড় বাড়াতেন। এখন কাগজপত্র যাচাই ও কালি দিয়ে চিহ্ন দেওয়ার কারণে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমেছে। কোনো ঝামেলা ছাড়াই অল্প সময়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে।
তারাগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের মালিক এস এম এ গফুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইউএনওর নির্দেশনায় গাড়ির কাগজ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট দেখে তেল দিচ্ছি। আগে এমন সুশৃঙ্খলভাবে তেল দিতে পারি নাই। আমার পাম্পে এর আগে গন্ডগোলও হয়ে গেছে। আজ মানুষ কোনো গন্ডগোল ছাড়াই লাইনে দাঁড়িয়ে সুন্দরভাবে তেল নিচ্ছে। এই সিস্টেম যেন পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়।’
যোগাযোগ করলে ইউএনও মো. মোনাব্বর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি সুষ্ঠুভাবে বণ্টন নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। কেউ যেন একাধিকবার তেল নিতে না পারেন, সে জন্যই আঙুলে অমোচনীয় কালি ও অনলাইন নিবন্ধন চালু করা হয়েছে। এতে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি সাধারণ মানুষ ন্যায্যভাবে তেল পাবেন। তেল বিতরণে ট্যাগ কর্মকর্তাসহ একটি দল মাঠে কাজ করছে।