নারী যত অগ্রসর হচ্ছে, তত প্রতিবন্ধকতা আসছে

· Prothom Alo

নারী যত অগ্রসর হচ্ছে, তার সামনে তত প্রতিবন্ধকতা আসছে। নারীর অগ্রগতি হলেও সংগঠিতভাবে তাকে পেছনে ঠেলে রাখার চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় নারীর পথের বাধাগুলো শনাক্ত করে সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সোমবার সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে কৌশলগত পরিকল্পনাবিষয়ক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

২০০২ সালে ২৮টি সংগঠন মিলে ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’ গড়ে তোলে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে নারী অধিকার রক্ষায় কাজ করা এই জোটের দিনব্যাপী কর্মশালাটি সোমবার অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে।

Visit tr-sport.click for more information.

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির কাজের মধ্য দিয়ে নারী আন্দোলন সামাজিক শক্তি হিসেবে গড়ে উঠেছে। নারী যত অগ্রসর হচ্ছে, তত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তার সামনে আসছে। এসব মোকাবিলা করে নারী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে কমিটিকে বাধা দূর করার কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘৫৫ বছরে কী কাজ করলাম, এটা অনেকের প্রশ্ন। আমি কখনো হতাশ হইনি; বরং এগিয়ে যাচ্ছি।’

উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্যে ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এখন সচেতনতা বেড়েছে। অনেক আন্দোলন হচ্ছে। তবুও নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে না। সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে নারীর অগ্রযাত্রার পথে অন্যতম বাধা এই সহিংসতা মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

অনুষ্ঠানে কর্মশালার উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামী। ঐক্যবদ্ধ নারী আন্দোলনের ভূমিকা ও গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য দেন মহিলা পরিষদের সহসভাপতি রেখা চৌধুরী এবং প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া খন্দকার ইভা।

উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে সাতটি দলে ভাগ হয়ে পারিবারিক চ্যালেঞ্জ, ধর্মীয় মৌলবাদ ও উগ্রপন্থা, নারীর প্রতি সহিংসতা, নারী আন্দোলন ও সংহতি, নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, আইন ও নীতি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়া বিষয়ে দলীয় কাজ অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় কাজ পরিচালনা করেন বহ্নিশিখার তাসাফ্ফী হোসেন। এ কাজ তদারক করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শারমিন আক্তার, ব্র্যাকের শাশ্বতী বিপ্লব, উই ক্যান অ্যালায়েন্সের জিনাত আরা হক, একশনএইড বাংলাদেশের মরিয়ম নেছা, গণসাক্ষরতা অভিযানের সামছুন নাহার ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের শাহাজাদী আফজালী।

সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং। তিনি বলেন, নারীর অগ্রগতি হলেও সংগঠিতভাবে নারীকে পেছনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়গুলো শনাক্ত করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ শুধু নারী আন্দোলন একা মোকাবিলা করতে পারবে না, সম্মিলিতভাবে করতে হবে।

এই অধিবেশনে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা সালমা আলী বলেন, ‘এখন অনেক নারী বিচারক থাকলেও থানাগুলো নারীবান্ধব নয়। নারী কমিশন, শিশুদের জন্য গঠিত কমিশন অনেক ভালোভাবে কাজ করছে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরে যেসব কাজ করা হবে, তা যেন দৃশ্যমান হয়—আমাদের সেই অঙ্গীকার করতে হবে।’

বৈষম্য নিরসনে প্রতিকার, প্রতিরোধ ও আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করা হবে, সেটির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

Read full story at source