মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতির দায়ে মেটা এবং ইউটিউবকে ৩০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে
· Prothom Alo

আপনি কি প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবে স্ক্রল করে সময় কাটান? কখনো কি মনে হয়েছে, এই অ্যাপগুলো আপনাকে আসক্ত করে ফেলছে? অকারণে আপনার মনে বিষণ্ণতা তৈরি করছে? যদি এমনটা মনে হয়ে থাকে, তবে আপনি একা নন! এবার এই আসক্তির জন্যই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানি মেটা এবং ইউটিউবকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জুরি বোর্ড এক যুগান্তকারী রায়ে মেটা এবং ইউটিউবকে এক তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই দুই কোম্পানিকে ৩০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে! বাংলাদেশি মুদ্রায় এর অর্থমূল্য প্রায় ৩৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। তবে শাস্তিমূলক জরিমানার অঙ্ক এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
Visit aportal.club for more information.
আদালতের নথিতে কেজিএম ছদ্মনামে পরিচিত ওই তরুণীর অভিযোগ ছিল বেশ চাঞ্চল্যকর। তাঁর দাবি, এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর অতিরিক্ত আসক্তি সৃষ্টিকারী অ্যালগরিদম এবং ডিজাইন তাঁকে চরম উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। জুরি বোর্ড তাঁর এই যুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করেছেন!
মজার ব্যাপার হলো, শুরুতে এই মামলায় টিকটক এবং স্ন্যাপচ্যাটও যুক্ত ছিল। কিন্তু বিচার শুরুর আগেই তারা আদালতের বাইরে আপস করে পার পেয়ে গেছে।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করে তরুণেরাআদালতের নথিতে কেজিএম ছদ্মনামে পরিচিত ওই তরুণীর দাবি, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর অতিরিক্ত আসক্তি সৃষ্টিকারী অ্যালগরিদম এবং ডিজাইন তাঁকে চরম উদ্বেগের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার এই মামলাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে এমন হাজার হাজার মামলা ঝুলে আছে। গত ২৪ মার্চ নিউ মেক্সিকোতে হওয়া এমনই একটি মামলায় মেটা আরও বড় ধাক্কা খেয়েছে। সেখানে শিশুদের অনলাইনে শোষণের হাত থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে!
যুক্তরাষ্ট্রে সেকশন ২৩০ নামে একটি বিশেষ আইন আছে, যা মূলত এই বড় কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কনটেন্টের দায় থেকে বাঁচিয়ে রাখে। এই আইনের কারণেই সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর বিরুদ্ধে এমন মামলা জেতা প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়া এবং নিউ মেক্সিকোর এই রায়গুলো প্রমাণ করছে, আইনের সেই শক্ত দেয়াল এবার হয়তো ভাঙতে শুরু করেছে। এটি সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিহাসে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।
নিউ মেক্সিকোর মামলাটি এখন দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করছে। এখানে বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন, মেটাকে তাদের প্ল্যাটফর্মে ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য কী কী বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।
অন্যদিকে, মেটা এবং ইউটিউবের মূল কোম্পানি গুগল জানিয়েছে, তারা এই রায়ের সঙ্গে একমত নয় এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করবে। তবে আগামী মাসগুলোতে আরও বেশ কিছু একই ধরনের মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। এই ধারা যদি চলতে থাকে, তবে হয়তো খুব শিগগিরই সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় এক বিশাল পরিবর্তন আসতে বাধ্য!
লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজসূত্র: নিউ সায়েন্টিস্টমানসিক চাপ কমানোর উপায় কী?