নতুন পোশাকে রঙিন হাসি ফুটল শিশুদের মুখে
· Prothom Alo

৯ বছর বয়সী হাফসার বাবা আলী আযম শেখের সঙ্গে মা রেহেনা বেগমের বিচ্ছেদ হয় আড়াই বছর আগে। কিছুদিন পর অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান রেহেনা বেগম। এর পর থেকে বাবার কাছে আছে হাফসা। রিকশাচালক বাবা জীবিকার তাগিদে দিনের বেশির ভাগ সময় থাকেন শহরের রাস্তায়।
২২ রমজান হাফসার বাবার রিকশায় চড়ে যাওয়ার সময় বন্ধুসভার এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হয়। কথায়–কথায় তিনি সেদিন বলতে শুরু করেন, ‘ঈদ আসতিছে, মাইয়েডরে এহনো একটা সুতাও কিনে দিতি পারলাম না। পারব কি না, কতি পারি না।’
Visit asg-reflektory.pl for more information.
এ কথা শুনে সেই বন্ধু চলে যান কাড়াপাড়া এলাকায় হাফসাদের বাড়ি। খোঁজখবর নিয়ে এসে কিনে ফেলেন তার জন্য ঈদের জামা। ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৬ মার্চ দুপুরে বাগেরহাট বন্ধুসভার উদ্যোগে হাফসার হাতে তুলে দেওয়া হয় সেই নতুন পোশাক।
নতুন জামা পেয়েছে শহরের দাশপাড়া এলাকার পাঁচ বছরের আশা মনি ও সাত বছরের লায়লা আক্তার। চার বছর আগে বাবাকে হারানো দুই বোনের ঈদে এবার নতুন পোশাক কেনা হতো না। সন্তানদের হাতে নতুন জামা দেখে কেঁদে ফেলেন তাদের মা সাদিয়া জাহান।
শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম চত্বরে এদিন হাফসা, আশা, লায়লার মতো ৪৩ শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন পোশাক। এ সময় তাদের চোখেমুখে ছিল খুশির ঝলক।
কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট বন্ধুসভার উপদেষ্টা ডা. প্রদীপ কুমার বকসী, প্রথম আলোর বাগেরহাট প্রতিনিধি সরদার ইনজামামুল হক, বন্ধুসভার সভাপতি মাহামুদ হোসেন, বন্ধু নাফিজ, তয়ন, বনি, সাকিব, আশা প্রমুখ। প্রতিবছরের মতো ঈদের আগে বন্ধুসভার বন্ধু, উপদেষ্টা ও সুহৃদরা নিজেদের অর্থে এ আয়োজন করেন।
সাধারণ সম্পাদক, বাগেরহাট বন্ধুসভা