মেট্রোরেলে অভিনেতার সঙ্গে ৯ মিনিটের আড্ডায় শুটিংয়ের অজানা কথা
· Prothom Alo
মতিঝিল মেট্রোরেলে বসতেই পাশে চোখ পরে ছোট পর্দার অভিনেতা হারুন রশিদের দিকে। তিনি ভক্তদের কাছে ‘বান্টি’ নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘদিনের চেনা এই অভিনেতা জানালেন, সকালে শুটিংয়ে যাচ্ছেন। পার্শ্বচরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ এই অভিনেতার সঙ্গে সাম্প্রতিক শুটিংয়ের হালচাল নিয়ে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত মেট্রোতে ৯ মিনিটের আড্ডা জমে ওঠে। তাঁর কথায় জায়গা পায় বিষণ্নতা, শিল্পীজীবনের নানা বাস্তবতার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের শুটিংয়ের নানা চিত্র।
Visit milkshakeslot.online for more information.
আজকে তাঁর শুটিংয়ের গন্তব্যস্থল উত্তরায়। এই ঈদ নাটকের পরিচালক নাজমুল রনি। সাড়ে ১০টায় তাঁর শিডিউল তাই সকাল সকাল ট্রেনে চেপে বসেছেন। পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকে কেউ কেউ বলছেন পার্শ্ব চরিত্রাভিনেতাদের কাজ আগের চেয়ে কম। আবার কেউ বলছেন কাজ কিছুটা বেড়েছে। অভিনেতা বান্টি ইসলামের কাছে কাছে জানতে চাই এ প্রশ্নের উত্তর। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ আসলে খুব বেশি বাড়ে নাই। ঈদের জন্য কিছু কাজ বাড়ে, যে কারণে মনে হচ্ছে। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি খুব বেশি ভালো নয়।’ তবে তিনি জানিয়ে রাখলেন প্রধান অভিনয়শিল্পী অনেকের কাজ তুলনামূলক কিছুটা বেড়েছে।
শুটিংয়ে সহশিল্পীর সঙ্গে হারুন রশিদ। ছবি: ফেসবুক থেকেএই অভিনেতা জানালেন, তাঁর সবচেয়ে বেশি শুটিং থাকে গাজীপুরের পুবাইলে। বেশির ভাগ সেদিকেই দৌড়াতে হয়। মোশাররফ করিম থেকে নিলয় আলমগীর সবার সঙ্গেই তাঁকে ঈদের একাধিক নাটকে দেখা যাবে। ‘আমি সবার সঙ্গেই কাজ করি। এই কয় দিন আগে পুবাইলে শুটিং করছি। সেখানে যে দুটা বাড়ি সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। ঈদের অনেক আগেই ভাড়া হয়ে যায়। সেই শুটিং বাড়ি দুটি দেখলাম খালি। আসলে আপনারা শুটিং সেটে গেলে এর প্রকৃত তথ্য পাবেন। তাহলেই বুঝতে পারবেন আমরা কেমন আছি।’
‘শুটিং নিয়ে আপনার দিনকাল কেমন যাচ্ছে?’—এমন প্রশ্নে এই অভিনেতা বলেন, ‘গতকালও লেট নাইট শুটিং করেছি। মতিঝিলের দিকে বাসা। আমি বাসায় পৌঁছেছি তিনটায়। ঘুমাতে ঘুমাতে ৫টা বেজে গেছে। এখন সাড়ে নয়টার বেশি বাজে। সকালে উঠে আবার যাচ্ছি শুটিংয়ে। গিয়ে আমার কাজ একের পর এক শুটিং শেষ করা। একটা দৃশ্যের শুটিং শেষ হতে না হতেই পরের দৃশ্যের কথা প্রধান সহকারী পরিচালক এসে কানে কানে বলে যাবেন। একটি সিন শেষ দ্রুত আবার প্রস্তুতি নিয়ে পরের দৃশ্যে যেতে হয়। মেশিনের মতো কাজ করতে হয়।’
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু অভিনয়শিল্পী ঈদের নাটক ৪ থেকে ৬ দিনে শুটিং করছেন শোনা গেলেও হারুন জানালেন ভিন্ন কথা। বরং কেউ কেউ শুটিং ইউনিটের ব্যয়ের কথা চিন্তা করে একটি নাটকের শুটিং এক থেকে দুই দিনেও শেষ করছেন। এই তালিকায় বড় বড় শিল্পীও রয়েছেন।
অভিনেতা হারুন রশিদ। ছবি: ফেসবুক থেকে‘নিলয় আলমগীর, সে কিন্তু চায় তিন–চার দিনে শুটিং করতে। তাহলে কাজটা আরও ভালো ভাবে করা যায়। কিন্তু তিনি সেভাবে কাজটি করতে পারেন না। তাঁকে দুই দিনে কাজ করতে হয়। কারণ, বাড়তি দুই দিন শুটিং করলে প্রযোজকের আরও বাড়তি দুই লাখ টাকা লাগবে, এই টাকা কে দেবেন?’
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শুটিংয়ে প্রধানশিল্পীদের ধরে দৃশ্যগুলো আগে শেষ করা হয়। পরে শুরু হয় পার্শ্বচরিত্রাভিনেতাদের শুটিং। সব শেষে তাঁদের শুটিং শেষ হয়। এটাই এখন নিয়ম হয়ে গেছে। তিনি মনঃক্ষুণ্ন হয়ে জানালেন, ‘গভীর রাতে ফিরে আবার পরের দিন সকালে যেতে হয়। এই জীবনযাপনটাই এখন সিস্টেম হয়ে গেছে। শুটিং মানে এখন যান্ত্রিক জীবন।’
গড়ে দিনের বেশির ভাগ সময় শুটিং সেটে থাকলেও সেই শুটিংয়ের চরিত্র নিয়ে সন্তুষ্টির জায়গাটা কম। ভালো চরিত্রের অভাব খুবই অনুভব করেন। কিন্তু বাধ্য হয়েই তাকে সব চরিত্রে অভিনয় করতে হয়, ‘এখন অভিনয় করে সন্তুষ্টির আশা করি না। আমার জীবনযাপন চলানোর জন্য মাসে যে কয়দিন শুটিং করতে হয়। সেই হিসাব করেই শিডিউল দিয়ে দিই। কারণ, বাছবিচার করতে গেলে কাজ করতে পারব না। এখন পছন্দের চরিত্র খুঁজতে গেলে আমার জীবন জীবিকাই থেমে যাবে।’
অভিনেতাকে চিনতে পেরে ছিনতাইকারী বলল, মোবাইল নেওয়ার দরকার নাই...ঈদের ২০টি মতো নাটকে দেখা যাবে এই অভিনেতাকে। ছবি: ফেসবুক থেকেতাহলে গল্প চরিত্রগুলো কীভাবে বাছাই করেন? ‘আমাকে বলে, ৩–৪টা দৃশ্য আছে করতে হবে। কখনো বলে ১০টা দৃশ্য আছে। আমি বলে দিই করব। এই শুটিং করতে গিয়েই নিয়মিত লেট নাইট করতে হয়। এ ছাড়া কোনো উপায় নাই। তবে শিল্পী হিসেবে ভালো চরিত্র খুবই মিস করি। চরিত্রই তো একজন শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু বাস্তবতা এখন আলাদা,’ বলেন হারুন রশিদ।
এই অভিনেতা গত বছর শুটিং শেষে ফেরার সময় রাতে ৩০০ ফিট এলাকায় কাঞ্চন ব্রিজের কাছে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকা সবকিছু নিয়ে নেন। সেই সময়ও তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। এবার ঈদে ২০টির বেশি নাটকে তাঁকে দেখা যাবে।