কীটনাশক

· Prothom Alo

‘সবাই এত চিন্তা করছে কেন? ওরা তো আমাদের কোনো ক্ষতি করছে না, তাই না?’ বিরক্ত হয়ে বললেন মিস ম্যাকি।

ভয়ংকর সময় পার করছে পৃথিবী। কিন্তু মিস ম্যাকির কোনো চিন্তাই নেই, একমনে বাগানে কাজ করছেন তিনি।

Visit een-wit.pl for more information.

উদাস দৃষ্টিতে তাকালেন দানবগুলোর দিকে। বিশাল আকৃতির ওরা, উচ্চতায় কয়েক মাইল তো হবেই!

এক সপ্তাহ আগে পৃথিবীতে এসেছে ওরা। ওদের মহাকাশযানটা এত বিশাল যে ওটার দৈর্ঘ্যই হয়তো কয়েক হাজার মাইল হবে! বিশাল যানটা ধীরে ধীরে এসে নেমেছে অ্যারিজোনার মরুভূমিতে। মহাবিশ্বের সুদূরতম প্রান্তের কোন অজানা নক্ষত্রের রহস্যময় কোন গ্রহ থেকে ওরা এসেছে, তা কেউ জানে না। হাজারখানেক অতিকায় দানব বেরিয়ে এসেছে সেই যান থেকে। ওরা এখন এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করছে।

কিন্তু মিস ম্যাকি যা বলছিলেন, সেটি একদম সত্য। ওরা এখনো কারও কোনো ক্ষতি করেনি। হয়তো ক্ষতি করার ক্ষমতাই ওদের নেই। ওদের দেহ এত অদ্ভুত আর অজানা উপাদান দিয়ে গড়া যে ওদের কেউ যখন কোনো মানুষ কিংবা বাড়ির ছাদের ওপরে পা ফেলে, তখন চারপাশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায়। ওদের অবিশ্বাস্য দানবাকৃতির দেহটা সরে যাওয়ার আগপর্যন্ত কেউ কিছুই দেখতে পায় না। সরে গেলেই আবার সব আগের মতো।

ওরা পৃথিবীতে আসার ফলে মানুষের শুধু এই অসুবিধাটুকুই হয়েছে।

ভয়েস ডিটেক্টর
মহাবিশ্বের সুদূরতম প্রান্তের কোন অজানা নক্ষত্রের রহস্যময় কোন গ্রহ থেকে ওরা এসেছে, তা কেউ জানে না। হাজারখানেক অতিকায় দানব বেরিয়ে এসেছে সেই যান থেকে।

মানুষের দিকে কোনো মনোযোগই দেয়নি তারা। মানুষের পক্ষ থেকে ওদের সঙ্গে যোগাযোগের সব রকমের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী বারবার ওদের আক্রমণ করেছে। কিন্তু ওদের দেহের ওপর কিছুরই প্রতিক্রিয়া হয়নি। কোনো ক্ষতিই করতে পারেনি গোলাগুলি। মনে হয়, কোনো আঘাতই লাগেনি ওদের। এক দানব যখন লম্বা লম্বা পা ফেলে মরুভূমি অতিক্রম করছিল, তখন তার ওপর হাইড্রোজেন বোমাও ফেলা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কিছু হয়নি!

ওদের কিছুতেই কিছু যায় আসে না।

‘তাহলে বুঝতেই পারছ,’ মিস ম্যাকি তার বোনকে বলছিলেন, ‘ওরা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে চাইছে না। তাই না?’

‘আশা করি তাই, আমান্ডা,’ আস্তে করে বললেন

তার বোন।

দুজন কিছুক্ষণ চুপচাপ দূরের দানবদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। কারও মুখে কোনো কথা নেই, অবাক চোখে দানবগুলোর কারসাজি দেখছেন দুই নারী।

একসময় নীরবতা ভেঙে মিস ম্যাকির বোন বললেন, ‘দেখ দেখ আমান্ডা…ওরা কী যেন করছে!’

একটু আগেও কড়া রোদ ছিল। প্রায় এক মাইল ওপরে নীল আকাশের পটে দানবদের মাথা দেখা যাচ্ছিল, অনেকটা মানুষেরই মতো।

কিন্তু এখন চারদিক কেমন ঝাপসা আর মেঘলা হয়ে এসেছে। বোনের দৃষ্টি অনুসরণ করে মিস ম্যাকি আকাশের দিকে তাকালেন। দুটো দানবকে দেখা যাচ্ছে। দুজনের হাতেই রয়েছে একটি করে বিরাট চৌবাচ্চার মতো জিনিস। সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে মেঘের মতো ধোঁয়া ধোঁয়া কী সব যেন! সেই মেঘ কুণ্ডলী পাকিয়ে ধীরে ধীরে নেমে আসছে মাটির দিকে।

আত্মঘাত
‘তাহলে বুঝতেই পারছ,’ মিস ম্যাকি তার বোনকে বলছিলেন, ‘ওরা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে চাইছে না। তাই না?’

‘মেঘ তৈরি করছে। এটা বোধ হয় ওদের মজার কোনো খেলা। মেঘ আর আমাদের কী ক্ষতি করবে? কেন যে মানুষ এত ভয় পায়! সবাই এত চিন্তা করছে কেন?’

নিজের কাজে ডুবে গেলেন মিস ম্যাকি। একটা বোতল নিয়ে এখানে–সেখানে স্প্রে করতে শুরু করলেন।

‘গাছে পানি দিচ্ছ নাকি আমান্ডা?’

‘না,’ মিস ম্যাকি বললেন, ‘কীটনাশক ছিটাচ্ছি।’

‘হুমম, আচ্ছা…আরে…’ হুট করেই চমকে উঠলেন মিস ম্যাকির বোন, ‘আমান্ডা, চলো এখান থেকে পালাই…তাড়াতাড়ি!’

‘কেন?’ অবাক হলেন মিস ম্যাকি।

‘কীটনাশক! বুঝতে পারোনি?’

‘হায় ঈশ্বর!’ অবাক চোখে দানবগুলোর দিকে তাকালেন মিস ম্যাকি। মেঘের মতো ধোঁয়াগুলো ওদের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে…

মূল গল্প: প্যাটার্ন*লেখাটি ২০২৩ সালে বিজ্ঞানচিন্তার জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিতআগ্রাসন

Read full story at source