ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নিন

· Prothom Alo

যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা আর মৌসুমি দুর্ভোগের গল্প নতুন নয়। তবু প্রতিবছর বর্ষা শেষে যখন বিলভর্তি পানি আর ডুবে থাকা ফসলের জমির ছবি সামনে আসে, তখন স্পষ্ট হয় সমস্যাটি কেবল প্রাকৃতিক নয়। এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতার ফল। হাজারো কৃষক বুকসমান পানিতে ডুবে থাকা জমির দিকে তাকিয়ে আছেন। প্রথম আলোর খবরে এসেছে, বোরো মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও তাঁদের সাত হাজার হেক্টর জমির এক শতক জমিতেও চাষ করা সম্ভব হয়নি।

ভবদহ অঞ্চলে অন্তত ৫২টি ছোট–বড় বিল রয়েছে। মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদের জোয়ার–ভাটার সঙ্গে এসব বিলের পানি ওঠানামা করার কথা। কিন্তু বছরের পর বছর পলি জমে নদীগুলো নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে বর্ষার অতিবৃষ্টিতে বিলগুলো প্লাবিত হলেও পানি দ্রুত নামতে পারে না। গত বর্ষায় দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী ছিলেন।

Visit fishroad-app.com for more information.

কৃষি দপ্তরের তথ্য বলছে, সাত হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়নি জলাবদ্ধতার কারণে। মাঠপর্যায়ের কৃষকেরা দাবি করছেন, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। পরিসংখ্যানের এই ফারাক শুধু সংখ্যার বিতর্ক নয়, এটি নীতিনির্ধারণের ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সঠিক তথ্য ছাড়া কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।

কৃষকেরা ছোট বিলগুলোতে সেচযন্ত্র বসিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছেন। কোথাও কোথাও বাঁধ দিয়ে পানি সরিয়ে আংশিক চাষ হয়েছে। কিন্তু যেসব বিলে পাঁচ থেকে সাত ফুট পানি, সেখানে সেচের খরচ ও ঝুঁকি বহন করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। একদিকে ফসলহানি, অন্যদিকে ঋণের বোঝা ও জীবিকার অনিশ্চয়তা কৃষকদের ক্রমেই দুর্বল করে দিচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদী পুনঃখননের কাজ চলছে এবং বাঁধ দিয়ে সেচে নদী শুকিয়ে কাজ এগোচ্ছে। প্রশ্ন হলো, পুনঃখননের কৌশল কি এমনভাবে নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষি মৌসুম ব্যাহত না হয়? উন্নয়ন কার্যক্রম যদি স্থানীয় অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে আরও বিপন্ন করে তোলে, তবে তার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

ভবদহের সংকট কেবল একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়, এটি পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি পরিকল্পনার সমন্বয়হীনতার প্রতিচ্ছবি। নদীর নাব্যতা রক্ষা, স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্লুইসগেটের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সময়মতো খননকাজ সম্পন্ন করা জরুরি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ, প্রণোদনা ও বিকল্প ফসলের সহায়তা বিবেচনা করতে হবে।

প্রতিবছর ঘুরেফিরে যদি একই দুর্দশার চিত্র ফিরে আসে, তবে তা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; প্রশাসনিক ব্যর্থতা। ভবদহের মানুষ সাময়িক আশ্বাস নয়, টেকসই সমাধান চান। এখন প্রয়োজন সমন্বিত ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ, যাতে কৃষকের জমি আর বিলের পানিতে ডুবে না থেকে উৎপাদনের মাঠে পরিণত হয়।

Read full story at source