ইরানে হামলার মধ্যে মার্কিন সেনাদেরও প্রাণ যেতে পারে বলে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

· Prothom Alo

  • মার্কিন অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

  • ইরানে ইসরায়েলি হামলার সঙ্গেই মার্কিন হামলা চালানো হচ্ছে।

    Visit salonsustainability.club for more information.

  • ইরান পাল্টা জবাবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

  • ট্রাম্প ইরানি জনগণকে ‘সরকার দখল’ করে নেওয়ার মতো উসকানিমূলক বক্তব্যও দিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, এতে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

ট্রাম্পের মতে, এই হামলার লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং তাদের নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করা। ইরান পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে গেলে আবার হামলা চালানো হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে বারবার সতর্কবার্তা দিচ্ছিল, এটি তারই প্রতিফলন।

ট্রাম্প তাঁর নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘আমার প্রশাসন এই অঞ্চলে মার্কিন কর্মীদের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে। তা সত্ত্বেও আমি এই কথাটি হালকাভাবে বলছি না, ইরানি শাসকগোষ্ঠী হত্যা করতে চায়।’

ট্রাম্প বলেন, ‘সাহসী আমেরিকান বীরদের জীবন যেতে পারে এবং যুদ্ধে যা প্রায়ই ঘটে, আমাদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু আমরা এটি বর্তমানের জন্য করছি না। আমরা ভবিষ্যতের জন্য করছি এবং এটি একটি মহৎ লক্ষ্য।’

অভিযান বেশ কয়েক দিন চলবে: মার্কিন কর্মকর্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এক্স’–এ নিজেদের অ্যাকাউন্টে পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাল। প্রথমটি ছিল গত জুনে। তখন ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছিল।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, প্রথম হামলার তুলনায় শনিবারের এই হামলা কয়েক দিন ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তেহরান পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এই প্রতিক্রিয়া হবে ‘ভয়াবহ’। রয়টার্সকে এমনটি জানিয়েছেন ইরানের একজন কর্মকর্তা। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার জবাবে তেহরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

নিজের বার্তায় ট্রাম্প ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড’–এর (আইআরজিসি) সদস্যদের অস্ত্র নামিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অস্ত্র ত্যাগ করলে তাদের ক্ষমা করা হবে। তাদের সামনে অন্য বিকল্পটি হলো ‘নিশ্চিত মৃত্যু’।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান বেশ কিছুদিন ধরে কয়েক দফায় আলোচনা করেছে। কোনো চুক্তি ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ আলোচনা শেষ হয়।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে, যেমনটি তারা দশকের পর দশক ধরে করে আসছে। তারা তাদের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করার প্রতিটি সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা এটি আর মেনে নিতে পারছি না।’

ইরানিদের সরকার দখলের উসকানি ট্রাম্পের

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম জানুয়ারি মাসে ইরানে হামলার ধারণাটি সামনে আনেন। তখন ইরানে দুই সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ চলছিল। ওই বিক্ষোভের সময় সহিংসতায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন।

ট্রাম্প তখন সতর্ক করেছিলেন, ইরানি কর্মকর্তারা যদি বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে উসকানি দিয়ে বলেছিলেন, সাহায্য আসছে।

ইরানে হামলার বিষয়ে দেওয়া বিবৃতিতে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করে ইরানিদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেন। তিনি বলেন, কারণ, ‘সব জায়গায়’ বোমা পড়বে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘যখন আমাদের কাজ শেষ হবে, আপনারা আপনাদের সরকার দখল করে নিন। এটি আপনাদেরই হবে। সম্ভবত পরবর্তী কয়েক প্রজন্মের মধ্যে এটিই আপনাদের একমাত্র সুযোগ।’

Read full story at source