‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস নিয়ে ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্র
· Prothom Alo
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক, ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালের প্রেক্ষাপটে রচিত ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস তাঁর অন্যতম কালজয়ী সৃষ্টি। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে বইটি নিয়ে ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রের আসর করে নোয়াখালী বন্ধুসভা।
সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদের সঞ্চালনায় বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আলোচিত হয় উপন্যাসের পটভূমি। ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসটির মূল পটভূমি ভাষা আন্দোলন হলেও গল্পটা ১৯৫২ সালের নয়, তারও পরের সময় ১৯৫৫ সাল। ছাত্র–জনতার মধ্যে তখনো চাপা উত্তেজনা, শহীদদের লাশের গন্ধ তখনো আকাশে–বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি বাংলা, মূল্যায়িত হয়নি শহীদদের আত্মত্যাগ। বরং সরকারের দমন–পীড়ন নীতি জোরদার করা হয়েছে। স্বৈরাচারী শাসকের পদতলে পিষ্ট হয়েছে শহীদদের সম্মানে নির্মিত শহীদ মিনার। সিপাহি বিদ্রোহের নির্মম স্মৃতিবিজড়িত ভিক্টোরিয়া পার্কের বর্ণনা দিয়ে লেখক উপন্যাসের সূচনা করেন।
Visit librea.one for more information.
ম্যাগাজিন সম্পাদক বুশরা করিম বলেন, ‘সাদা শার্ট, সাদা প্যান্ট পরিহিত খালি পায়ে হাঁটা ছেলেটিই হলো উপন্যাসের মূল চরিত্র। নাম তার মুনীম। লেখক তাঁর লেখনীতে বাস্তব ও তৎকালীন পটভূমি সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।’
জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক জয়শ্রী নাথ বলেন, ‘আরেক ফাল্গুন’ জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা একটি উপন্যাস। ভাষা আন্দোলনভিত্তিক রচিত সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই উপন্যাসকে।
পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফাতেমা কানিজ বলেন, ‘রোমান্টিকতা ও প্রতিবাদ—এই দুই ক্ষেত্রকে উপন্যাসে লেখক সুন্দর করে দেখিয়েছেন। ভাষাশহীদদের সম্মান জানানো আর রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। তিন দিন নগ্ন পায়ে চলা, রোজা রাখা, আর কালো ব্যাজ ধারণের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে থাকে তাদের তিন রাত দুই দিনের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।’
সভাপতি আসিফ আহমেদ বলেন, ‘এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হব!’ একটি ছাত্রের এই কথার মাধ্যমে লেখক উপন্যাস শেষ করেন। কিন্তু এই কথার যথার্থ আমরা প্রতি সময়ই উপলব্ধি করি। যেমন ১৯৭১-এর স্বাধীনতার যুদ্ধে, ১৯৯০ ও ২০২৪-এর স্বৈরাচারী পতন এবং বিভিন্ন আন্দোলনের সময় এই লাইন সত্যি প্রতিফলিত হয়েছে।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মো. শিমুল, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক নয়ন চন্দ্র কুরী, বন্ধু জেরীন ফাহমিদাসহ অনেকে।
সাধারণ সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা