মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ‘পুলিশি হয়রানির’ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির

· Prothom Alo

রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ কিশোর, তরুণ ও নাগরিকদের ওপর পুলিশের হয়রানির অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এসব হয়রানির প্রেক্ষাপট তৈরির দায় থেকে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনও রেহাই পেতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এমন মন্তব্য করেছে।

Visit sport-newz.biz for more information.

রাতের বেলা কিশোরদের অযাচিত ঘোরাঘুরি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে সংবিধানবিরোধী আখ্যা দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন আওতাবহির্ভূতভাবে সংবিধানবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি রাতের বেলা অযাচিতভাবে কিশোরেরা ঘোরাঘুরি করলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলেছেন।’

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি মনে করে, শিক্ষামন্ত্রী হয়েও অযাচিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ করতে চাওয়া এহসানুল হক মিলনের এই বক্তব্য পরিষ্কারভাবেই পুলিশি হয়রানির সুযোগ তৈরি করেছে। যার ফলাফল হিসেবে কয়েক দিন ধরে ঢাকার রবীন্দ্র সরোবর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ ঢাকার বাইরের বিভিন্ন স্থানেও মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ কিশোর, তরুণ ও নাগরিকদের ওপর পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থীকে মারধরে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবি জানিয়ে কমিটি বলেছে, মাদকের বিস্তার রোধে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা, সীমান্তে মাদকের চোরাচালান বন্ধ করা, মাদকের যে বিশাল সিন্ডিকেট আছে তাদের গ্রেপ্তার করা, বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা—এসবের কোনোটাই পুলিশকে করতে দেখছি না। আসল হোতাদের না ধরে, উল্টো অযথা সাধারণ নিরীহ নাগরিকদের ব্যাগ তল্লাশি করে কোনো কিছু পাওয়া না গেলেও তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে শুধু এই অজুহাতে যে তাঁরা কেন রাতের বেলায় পার্কে এলেন!

বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুধু প্রশ্ন করার কারণে এবং পুলিশের সঙ্গে তর্ক করার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা নাইমুদ্দীনের ওপর যেভাবে পুলিশ হামলা করেছে, কিংবা একজন কিশোরকে কোনো কারণ ছাড়াই যেভাবে চড় মারা হয়েছে, সেটির নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। অবিলম্বে এসব ঘটনায় দোষী পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।

পার্কে বা উন্মুক্ত স্থানে আড্ডা দেওয়া কোনো অপরাধ নয় উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, কোন আইনের বলে পুলিশ রাতের বেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত জনপরিসর থেকে সাধারণ মানুষকে চলে যেতে বলছে, তা–ও আবার মিডিয়ার লাইভ চলাকালে, তা বোধগম্য নয়। সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক লাঞ্ছনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমের উপস্থিতিতে যেভাবে বিনা কারণে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে শিক্ষার্থী নাইমুদ্দীনকে পেটানো হলো, তার দায় কোনোভাবেই তিনি এড়াতে পারেন না। একই সঙ্গে এসব হয়রানির প্রেক্ষাপট তৈরির দায় থেকে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনও রেহাই পেতে পারেন না।

বিবৃতিতে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। দাবিগুলো হলো—ডিসি মাসুদ আলমকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে; সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার জন্য অবিলম্বে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে; নিজের আওতাবহির্ভূত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবিধানবিরোধী বক্তব্য দিয়ে পুলিশি হয়রানির প্রেক্ষাপট তৈরিতে অবদান রাখার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে; মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা দ্রুত বন্ধ করতে হবে এবং পার্ক ও উদ্যানে সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত এবং আড্ডা দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

Read full story at source